সংবাদ শিরোনাম
 প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় সবার শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলবে | করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পেল মা! | পাকিস্তানকে মদিনা শরিফের আদর্শ অনুসরণে মহৎ রাষ্ট্র বানাবো: ইমরান খান | মোদির হাতেই রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আমন্ত্রিত সব মুখ্যমন্ত্রী | জুমার নামাজের মধ্যদিয়ে মসজিদ হিসেবে খুলছে ‘আয়া সোফিয়া’ | জায়নামাজ চাইলেন সাবরিনা, সঙ্গে কিছু বড় কাপড় | টিউশনের নাশতা খেয়েই দিন পার করা মেয়েটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক | তুরস্কে আজান দেয়া বন্ধ করতে পারবে না কেউ: এরদোয়ান | রিমান্ডে স্বামী-স্ত্রীর কাদা ছোড়াছুড়ি | পরিবারের পছন্দের মেয়ে আর প্রেমিকা, দুজনকেই একসঙ্গে বিয়ে করলেন যুবক |
  • আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বানের পানির মধ্যে ভোট, আগ্রহ নেই ভোটারদের!

Desk Editor | Desk Editor ৬:০৮ অপরাহ্ণ | জুলাই ৬, ২০২০ জাতীয়, নির্বাচন

এই মুহুর্তে বন্যায় ডুবে আছে পুরো সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা। এই পরিস্থিতির মধ্যে ভোট আমারা কেমন করে দেব। ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিত করাই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে।

তারমধ্যে আবার করোনা সতর্কতা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে ভোটারদের একেবারেই আগ্রহ নেই এবারের উপ-নির্বাচনে।

আজ সোমবার কালের কণ্ঠের কাছে বগুড়া-১ আসনের ভোট নিয়ে এ ভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন স্থানীয় শিক্ষক মাহাতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, দুযোর্গের পর ভোটের তারিখ করলে ভালো হতো।

দেখা গেছে, একদিকে করোনার মহামারী, অন্যদিকে বন্যায় ডুবে আছে উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা। এর মধ্যেই আগামী ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের স্থগিত উপ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

করোনার প্রাদুর্ভাব ও বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকার সময়ে হঠাৎ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করায় ভোটার ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হয়নি বলেও জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, ভোটের জন্য এখনো প্রস্তুত নয় বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী ও ভোটাররা। বেশ কজন প্রার্থী এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এ মতামত জানা যায়।

গত বছর ১৮ জানুয়ারি সাংসদ আবদুল মান্নানের মৃত্যুতে এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন ধরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ প্রয়াত আবদুল মান্নানের সহধর্মিণী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান (নৌকা), জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির অধ্যক্ষ মোকছেদুল আলম (লাঙ্গল), প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি (পিডিবি) মো. রনি (বাঘ), খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী প্রভাষক নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও স্বতন্ত্র ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (ট্রাক)।

এর মধ্যে ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্ত হলে উপনির্বাচন স্থগিত করা হয়। শনিবার নতুন করে ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের ঘোষণা দিলে প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেন।

সোমবার অন্য কোনো প্রার্থী মাঠে না নামলেও আওয়ামী লীগের সাহাদারা মান্নান গণসংযোগে বেরিয়ে পড়েন। তিনি উপজেলার ভেলাবাড়ী, ফুলবাড়ী, কাজলা ও চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, বর্তমানে বগুড়া জেলা করোনার হটস্পট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সারাদেশে। ৪ জুলাই পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে ৩ হাজার ৩০৭ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৬১ জন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৮ এবং সোনাতলায় ৭২।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী জানান, জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ৮৮টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়ে ১৫ হাজার ৩শ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৬১ হাজার ২শ।

সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, আমার ইউনিয়ন চর এলাকা। এখানে ৫টি ভোটকেন্দ্র বর্তমানে বন্যার পানি নিচে রয়েছে।

কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার বলেন, আমার ইউনিয়নে ৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। তাতে বন্যার পানি প্রবেশ করেনি। তবে আশপাশের গ্রামগুলোয় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

সেসব গ্রামের ভোটারকে ভোট দিতে চাইলে নদী সাঁতরে যেতে হবে ভোটকেন্দ্রে। কারণ অনেক জায়গায় নৌকার ব্যবস্থা নেই।

বন্যায় নিমজ্জিত ঘরবাড়ি ফেলে সারিয়াকান্দি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেওয়া সেকেন্দার আলী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যামু কেমন করে। কোমর সমান পানি। তার মধ্যি ভোট হবি ক্যামনি।’

সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত বলেন, বন্যা ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব পড়বে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেকেই ভোট দিতে যাবেন না। এতে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোকছেদুল আলম বলেন, দেশে করোনার কারণে মানুষ অতি কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তার মধ্যে এ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভালো না। অনেক ভোটকেন্দ্রে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এমন অবস্থায় তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা ঠিক হয়নি।

বিএনপির প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকির বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষ ভীতসনস্ত্র। এ ছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি।

যমুনার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। সোনাতলা উপজেলার একটি ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দি। বন্যার এ সময়ে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাহাদারা মান্নান বলেন, ছয় মাস এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। মানুষের সমস্যার কথা সংসদে বলার কেউ নেই। ভোটের তারিখ ঘোষণা করার পর মানুষ নিজেদের পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। মানুষ সন্তুষ্ট ও খুশি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৬টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে মোট ২২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র চারটিতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে ওইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং আফিসার রাসেল মিয়া জানান, উপনির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের আগে থেকেই ছিল।

তবে বন্যার কারণে চরের কিছু কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্র স্থানান্তরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরেজমিন চরাঞ্চল পরিদর্শন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৯২ জন। এর মধ্যে সারিয়াকান্দিতে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩২৬ এবং সোনাতলায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৬ জন।