• আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণ বললেন না প্রতিমন্ত্রী

| Desk Editor ৪:৩৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ৭, ২০২০ জাতীয়, দুর্ঘটনা

কারণ না জানিয়ে শেষ হলো বুড়িগঙ্গায় সাম্প্রতিক লঞ্চ ডুবির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলন।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সাতদিনের সময় শেষে সোমবার (০৬ জুলাই) রাতে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

এসময় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনার কারণ জানানো যাচ্ছে না। এ সময় ফিটনেসবিহীন লঞ্চ বন্ধসহ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ দফা সুপারিশমালা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হবে। মূল তদন্ত যেটা হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেই তদন্তটা যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য এটা জনসমক্ষে প্রকাশ করছি না।

আমরা একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী নৌ দুর্ঘটনাটি এখনো হত্যাকান্ড বলেই মনে হয়। তবে, ঘাতক লঞ্চটির ফিটনেসে ঘাটতি নেই।

পুলিশী তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে, ৩০২ ধারায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

গত ২৯ জুন লঞ্চ দুর্ঘটনার দিনই সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

তদন্ত কমিটিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম খানকে আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা) রফিকুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়।

কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি/সংস্থাকে শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ময়ূর-২ এর মাস্টার, চালক ও সুকানিসহ অন্যদের দায়িত্বে অবহেলাকেই মূলত দায়ী বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ডুবে যাওয়া ভাঙাচোরা ছোট আকারের লঞ্চ মর্নিং বার্ডের চলাচলে অনুমোদনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই অনুমোদনের জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতিকেও দায়ী করা হয়েছে।

২৯ জুন সকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের মর্নিং বার্ড লঞ্চটি জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়।

স্থানীয়রা জানান, সকাল নয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা দুই তলা মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাট কাঠপট্টি ঘাটে ভেড়ানোর আগ মুহূর্তে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়।

এতে সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক ছোট মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর সদস্যরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা টানা অভিযানে ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।