সংবাদ শিরোনাম
 প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় সবার শেষে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলবে | করোনা টেস্ট করাতে গিয়ে চার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পেল মা! | পাকিস্তানকে মদিনা শরিফের আদর্শ অনুসরণে মহৎ রাষ্ট্র বানাবো: ইমরান খান | মোদির হাতেই রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, আমন্ত্রিত সব মুখ্যমন্ত্রী | জুমার নামাজের মধ্যদিয়ে মসজিদ হিসেবে খুলছে ‘আয়া সোফিয়া’ | জায়নামাজ চাইলেন সাবরিনা, সঙ্গে কিছু বড় কাপড় | টিউশনের নাশতা খেয়েই দিন পার করা মেয়েটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক | তুরস্কে আজান দেয়া বন্ধ করতে পারবে না কেউ: এরদোয়ান | রিমান্ডে স্বামী-স্ত্রীর কাদা ছোড়াছুড়ি | পরিবারের পছন্দের মেয়ে আর প্রেমিকা, দুজনকেই একসঙ্গে বিয়ে করলেন যুবক |
  • আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

একজন তারিক লিটু এখন তারুণ্যের দৃষ্টান্ত

Avatar | ডেস্ক এডিটর ৮:২৩ অপরাহ্ণ | জুলাই ৮, ২০২০ দেশজুড়ে, লিড নিউজ, হেডার স্কল

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কত তার সঠিক তথ্য নেই। তবে কয়েক মাস পূর্বে সরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষণায় বলা হয়েছিল, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে সম্পূর্ণ বেকার ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৩০ লাখের উপরে হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এমন বাস্তবতায় চাকরি পাওয়া এখন দুরহ ব্যাপার। ফলে যুবক ও তরুণদের একটি বিরাট অংশের মধ্যে হতাশা রয়েছে। এই হতাশায় নিমজ্জিত হতে চান না কেউ। তাই আজকাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসের চেয়ে চাকরির পড়াশুনায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বেশি। শিক্ষার্থীদের টেবিলে ক্লাসের বইয়ের চেয়ে চাকির প্রস্তুতির বই বেশি দেখা যায়।

তবে অনেক তরুণ রয়েছেন, যারা চাকরির পেছনে না ছুটে ‘নিজে কিছু করা’র পিছনে ছোটেন। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট বা বড় পরিসরে উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করেন। এমন একজন তরুণ তারিক লিটু। বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে কৃষির দিকেই হেঁটেছেন তিনি। অল্প পুঁজিতে হাঁসের খামার করে মাসে প্রায় ২৪ হাজার টাকা আয় করছেন।

তারিক লিটুর বাড়ি খুলনার কয়রা থানার নদী ভাঙ্গন কবলিত গোবরা গ্রামে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পানের পানিতে ডুবতে হয়েছে তার পরিবারকেও। কিন্তু বেকারত্ব আর প্রতিকৃতির নিষ্ঠুরতায় নেমে যাননি তিনি। নিজের মতো গড়ে তুলেছেন হাসের খামার।

তারিক লিটু চলতি বছর গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএসটিইউ) থেকে এমবিএ শেষ করেছেন। এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাশাপাশি ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বাড়িতে হাঁসের খামার শুরু করেন।

বিবিএ করে কেন হাঁসের খামার করছেন এমন প্রশ্নে সময় নিউজকে তারিক লিটু বলেন, প্রথমে চিন্তা ছিল পড়াশুনার খরচটা যেন নিজেই উপার্জন করতে পারি। কিন্তু টিউশনি বা একেবারে অস্থায়ী কিছু না করে উদ্যোক্তা হওয়া যায় এমন কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। অল্প পুঁজিতে হাঁসপালনের বিষয়টি জানতে পারি। পরে এর ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার শুরু করি।

শুরুতে তিনি ইউটিউবে হাঁস পালনের ভিডিও দেখে অভিজ্ঞতা নেন। এরপর খামার শুরুর আগে স্থানীয় যুব উন্নয়ন থেকে হাঁস ও মৎস্য চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে যুব উন্নয়ন থেকে ৪০ হাজার ও মা-বাবার থেকে ১০ হাজার টাকা পুঁজিতে ৩০০ হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন খামার। গ্রামে দুই একর যায়গার ওপর গড়ে তোলেন ‘জাহানারা এগ্রো ফার্ম’। খামারের বয়স এখন এক বছর ৯ মাস। এর মধ্যে তার প্রতি মাসে খরচ বাদ দিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা বা বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকা।

গ্রামের বসবাস করা এই তরুণের সাফল্য সাড়া ফেলেছে পুরো এলাকায়। তাকে অনুসরণ করে হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন অনেকেই। স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানেও সহায়তা করছেন তিনি। তার কাছ হাঁসের থেকে বাচ্চা নিয়ে ১৬ জন নতুন করে হাঁসের খামার গড়ে তুলেছেন।

তারিক লিটু সময় নিউজকে বলেন, ‘আমার হাঁসের খামার দেখে কয়রার আরও ১৬ জন তরুণ হাঁসের খামার করেছে। তাদের সবারই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। আগে যারা বেকার যুবক ছিলেন, তারা এখন অনেকেই হাঁসের খামারি। বর্তমানে আমার খামারে জিংডিং ও খাঁকি ক্যাম্বেল প্রজাতির ৪৬০টি হাঁস রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাড়ির পাশে কপোতাক্ষ নদের চর আছে, মূলত দিনের বেলায় হাঁসগুলো নদের চরে ঘুরে বেড়ায় আর রাতে খামারে থাকে। প্রতিদিন ১৫০টি ডিম পাই যার বাজার মূল্য ১৫০০ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে মাসে ২৪ হাজার টাকা মত আয় হয়। তবে সব সময় লাভের মুখ দেখা যাই তেমনটা নয়। একবার স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ডাক কলেরা টিকা না পাওয়ায় ১৩০টি হাঁস মারা গিয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি আম্পান বন্যায় ৭৩টি হাঁস মারা গেছে। হাঁসের ঘর ভেঙে গেছে।’

তরুণ বেকারদের উদ্দেশ্যে তারিক লিটু জানান, ‘বেকার বসে না থেকে হাঁস পালন করে যুবকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারে। এর জন্য দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারিভাবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এবং সহজে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ পাওয়া গেলে নিজের খামারটি আরো বড় করা যাবে।’

কয়রা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের ওষুধসহ খামার স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে হাঁস পালনে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।’