• আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের জনজীবন

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের জনজীবন।প্রখর রোদে ঘরে বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি।

গরমে সবচেয়ে বেশি নাকাল হয়েছে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শ্রমজীবী মানুষজন কাজের মধ্যে অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। অতিরিক্ত গরমে প্রয়োজনেও ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে মানুষজন।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নাজেহাল হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। গরমের কারণে দুপুরের আগেই শহরের বেশিরভাগ এলাকা প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
একটু স্বস্তির জন্য অনেকেই গাছের তলা কিংবা ঠান্ডা স্থানে বসে সময় কাটাচ্ছেন। ফ্যানের বাতাসেও গরম অনুভব হওয়ায় বিরক্তিতে ঘরে থাকা মানুষজন।

এই গরমে শুধু মানুষই নয়, পশুপাখিদেরও প্রাণ ওষ্ঠাগত।

জিয়া বাজার এলাকার হোটেল শ্রমিক মাসুদ জানান, আমাকে চুলার পাড়ে রান্নার কাজ করতে হয়। একদিকে চুলার আগুনের গরম অন্যদিকে প্রখর রোদে ঘেমে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি।

ক্লান্তে শরীরে কাজকর্মে অনীহা আসছে। তবুও রোজগারের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ক্লান্তি দূর করার জন্য অতিরিক্ত পানি ও স্যালাইন খাচ্ছি।

ওই এলাকার সাইকেল মেকার মমিন মিয়া জানান, আমি খোলা অআকাশের নিচে রিকশা ও সাইকেল মেকারীর কাজ করছি। কিন্তু অতিরিক্ত রোদ ও গরমের কারনে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। রোদের তেজ চোখে মুখে লাগছে। তাপ বেশী হওয়ায় মাথা ব্যথা করছে।

ভিতরবন্দ এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী জসিমুদ্দি জানান, আমি ভিতরবন্দ থেকে জিয়া বাজারে এসেছি কাঁচামাল ক্রয় করতে। আমি বয়স্ক মানুষ। এতোটা পথ তীব্র গরমে পাড়ি দিয়ে শহরে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তাই গাছের তলায় ছায়ায় বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছি।

জিয়া বাজারের ভ্যান চালক বুলু মিয়া জানান, আমাকে সব সময় রাস্তায় ভ্যানে করে বাজারের কাচামাল বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু গত দুই প্রখর রোদে ভ্যান চালানোর কারনে জ্বর ও মাথা ভোগার কারনে আজ ভ্যান বের করিনি। তাই ফার্মেসিতে এসেছে ঔষধ নিতে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবু মোঃ জাকিরুল ইসলাম বলেন, করোনার কারনে গরম জনিত রোগের রোগীরা হাসপাতালে আসছে না।
গরমে হিট স্ট্রোক রোগীদের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নেয়া আছে। তবে মানুষজনের উচিত তীব্র গরমে প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘরের বাহিরে বের না হওয়া। এক্ষেত্রে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার রিপোর্ট অনুযায়ী আজকের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.১ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

সন্ধ্যা ৬টার রিপোর্টে আরও বাড়তে পারে। রংপুর বিভাগের উপরে তাপ প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এবং তা প্রশমিত হতে পারে।

রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে দমকা হাওয়া সহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্র বৃষ্টি হতে পারে।তবে তাপমাত্রা অআরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তিনি জানান।