• আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘সুযোগ পেলেই একটা গ্রুপ চালের দাম বাড়িয়ে দেয়’

| আসমাউল মুত্তাকিন,নিউজ রুম এডিটর ২:০৬ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১০, ২০২০ জাতীয়

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, কোভিড-১৯ সময়েও মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার মন-মানসিকতা সবার নেই। একটা গ্রুপ রয়েছে যারা সুযোগ পেলেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে।

রবিবার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে খাদ্য নিরাপত্তা : বাংলাদেশ কি চাল ঘাটতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে?’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে এ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদেরকে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থকেই গুরুত্ব দিতে হবে। এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে সরকারি মজুদ সঠিক পরিমাণ রাখতে হবে।

সেমিনারে খাদ্যসচিব নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মণ্ডল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. হোমনাথ ভান্ডারি, এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীনস্থ সব দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, বিভিন্ন দাতা সংস্থা, এনজিও এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে সংযুক্ত ছিলেন।

সেমিনারে বলা হয়, দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। নভেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মিটিয়ে ৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। চালের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৫৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বোরো ও আমন মৌসুমের উদ্বৃত্ত উৎপাদন থেকে হিসাব করে জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২০ দশমিক ৩১ মিলিয়ন টন চাল ছিল।

আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মেটানোর পরও ৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টন চাল দেশের অভ্যন্তরে উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫০ কোটি মানুষের চাহিদা মিটানোর পরেও ৩৬-৭৮ দিনের চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। এ ছাড়া, নভেম্বরের মধ্যে দেশের ফুড বাস্কেটে নতুনভাবে আউশ ও আমনের উৎপাদন যুক্ত হবে। ফলে, বাংলাদেশে আপাতত খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কোভিড-১৯ সময়কালীন খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ধানের উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে গৃহীত পদক্ষেপ পর্যালোচনা এবং উৎপাদনে বৃদ্ধিতে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এই সেমিনারের আয়োজন করে। কোভিড-১৯ কালীন ও তৎপরবর্তী দেশের খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থার বরাত দিয়ে অনেক বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারিত হচ্ছে যা জনমনে এবং পলিসি লেভেলে অস্বস্তি তৈরি করছে বলে বক্তারা বলেন।