• আজ ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ডাইনিং রুমেও জায়গা হলোনা বৃদ্ধ পিতার! গলাধাক্কা দিয়ে বের করে বসতবাড়িতে তালা ঝুলালো ছেলে

| নাজমুল শাহাদাৎ জাকির, স্টাফ রিপোর্টার ৬:৪৪ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১ সারাদেশ
গলাধাক্কা দিয়ে বের করে বসতবাড়িতে তালা ঝুলালো ছেলে

যে বাবা সারাজীবন নিজের সবটুকু দিয়ে সন্তানদের বড় করে তুলেছেন। সারা জীবন সন্তানদের চরম আদরে আগলে রেখেছেন। বৃদ্ধ হওয়ার পর নিজের সারা জীবনের অর্জিত সম্পত্তি সন্তানদের মাঝে বন্টন করে দিয়ে আশ্রয়স্থল হিসেবে বসতবাড়ির ডাইনিং রুমকে বেছে নিয়েছিলেন।

অথচ সেই বাবার-ই জায়গা হয়নি বসতবাড়ির ডাইনিং রুমেও। বৃদ্ধ পিতাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার পাশাপাশি গলাধাক্কা দিয়ে ডাইনিং রুম থেকে বের করে দিয়ে বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভূক্তভোগী বৃদ্ধ রুহুল আমীনের বড় ছেলে রইছুল আমীনের বিরুদ্ধে।

রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা পৌর এলাকার প্রাণসায়ের এলাকায় অবস্থিত রুহুল আমীনের বসতবাড়িতে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিজের বসত বাড়িতে প্রবেশ করতে না পেরে বাধ্য হয়ে পথে পথে অন্যত্র বসবাস করতে হচ্ছে বৃদ্ধ রুহুল আমীনকে। সন্তানের এমন আচরণে স্থানীয়ভাবেও তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সাতক্ষীরা প্রাণসায়ের এলাকায় অবস্থিত ডে-নাইট কলেজের পশ্চিম কোলে রুহুল আমীনের বসতবাড়ি।

বসতবাড়ির ভেতরের প্রবেশ পথে অবস্থিত দরজায় ঝুলে রয়েছে একাধিক তালা । বাধ্য হয়ে পাশের সরু গলিপথ দিয়ে ছোট ছেলে রওনাকুল আমীনের ঘরের ভেতর দিয়ে নিজের থাকার ঘরে (ডাইনিং রুম) প্রবেশের চেষ্টা করছেন বৃদ্ধ রুহুল আমীন। তবে ঘরের ভেতর থেকে দরজা লক করে দেওয়ায় দরজা খুলতে না পেরে দরজাতে ধাক্কা দিয়ে আর্তনাদ করতে থাকেন তিনি। তবে ভেতর থেকে কোন সাড়া না পেয়ে হতাসাগ্রস্থ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

এবিষয়ে ভূক্তভোগী রুহুল আমীনসহ স্থানীয়রা জানান, ৯০-এর দশকে নিজের কষ্টের উপার্জিত টাকা দিয়ে স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের নামে ৫শতক জমি ক্রয় করেন রুহুল আমীন। পরবর্তীতে চার রুমের একটি ভবনও তৈরী করেন নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে। তবে রুহুল আমীনের স্ত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তার (রুহুল আমীন) কথামতো জমিগুলো দুই ছেলের নামে হেবা দলিল করে দেন আনোয়ারা খাতুন।

তবে আনোয়ারা খাতুন যখন মারা যান তখন জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই ছেলের ভিতরে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এসময় স্থানীয়দের উপস্থিতে ভবনের দক্ষিণ পার্শ্বের ২টি বেডরুম, ১টি বারান্দা, রান্নাঘর, বাথরুম বড় ছেলে রইছুল আমীনকে ও উত্তর অংশের ২টি বেডরুম, রান্নাঘর, বাথরুম ছোট ছেলে রওনাকুলকে দেওয়া হয়। তবে বসতবাড়ির একমাত্র ডাইনিং রুমে রুহুল আমীন থাকতে চাইলেও বাধাঁ হয়ে দাঁড়ান তার বড় ছেলে রইছুল আমীন।

তবে স্থানীয়দের সমর্থনের কারনে রইছুল আমীন তার পিতা রহুল আমীনকে ডাইনিং রুমে থাকার কথা বললেও পিতাকে ডাইনিং রুম থেকে উচ্ছেদ করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন রইছুল আমীন।

একপর্যায়ে রইছুল আমীনের প্রাপ্য ঘর সে তার বন্ধু এমাদুল বাশারের কাছে ভাড়া দেন জানিয়ে তার পিতা রুহুল আমীন জানান, আমাকেসহ আমার ছোট ছেলের ঘর দখল করতে বিভিন্ন সময় হুমকী ধামকী দিতে থাকে আমার বড় ছেলে রইছুল সহ তার বন্ধু এমাদুল বাশার। একপর্যায়ে রইছুল তার সহদর ভাই রওনাকুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ধারায় সাতক্ষীরা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে ২০২০ সালের ১৪ আগস্টে একটা মামলা করেন (মামলা নং: ১০০২/২০)। যেটা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। তবে আমি এঘটনার প্রতিবাদ জানালে আমার বড় ছেলে আমার বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।

এবং আমাকে ফাঁসাতে সে আমার স্বাক্ষরিত চেক চুরি করে তার বন্ধু এমাদুল বাশারকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করাতেও দ্বিধাবোধ করেননি বলে দাবি করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, এঘটনায় আমি থানাতে গেছিলাম।

তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকাই পুলিশ আমার ছেলের বিরুদ্ধে আমার করা অভিযোগ গ্রহণ করেননি জানিয়ে তিনি আরো জানান, এঘটনার প্রতিকার চেয়ে ও আমি আমার ছেলের রইছুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আমলী আদালত-১ এ দন্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪০৬, ৪২০, ৫২০ (২য়) ও ১০৯ ধারাতে এক মামলা করি। মামলা করার পর থেকে সে ও তার বন্ধু এমাদুল আমাকে সামাজিক ভাবে হয়রানীর চেষ্টা করতে থাকে।

একপর্যায়ে গত ৫’ই সেপ্টেম্বর রইছুল ও তার বন্ধু আমাকে আমার আশ্রয়িত ডাইনিং রুম থেকে বের করে দিয়ে বসত বাড়ির রুমে তালা ঝুলিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে আমি আমার ছোট ছেলের কাছে আশ্রয় নেই। তবে জায়গা স্বল্পতার কারনে সেখানেও থাকা সম্ভব হচ্ছেনা। বাধ্য হয়ে পথে পথে অন্যের আশ্রয়ে দিন পার করতে হচ্ছে আমাকে। এসময় এঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

পিএন/জেটএস


করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে