• আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান , মির্জাগঞ্জে টিকার বাইরে ১৭১ শিক্ষক-কর্মচারী

পটুয়াখালী

দীর্ঘ দেড় বছর পর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগেই স্কুল-কলেজের সব শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এখনও টিকা নিতে অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীদের রয়েছে অনীহা।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী টিকা নেননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আগে শিক্ষকদের টিকা নেওয়া বাধ্যমূলক করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে।

কিন্তু মির্জাগঞ্জ উপজেলার ১৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো টিকা নেননি। তাঁদের এ অবহেলার শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কার করেছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় কলেজ, মাদরাসা, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ২০৯ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ১২৩ জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। ১টি সরকারি কলেজসহ ৭ টি কলেজে ৩৪২ জন, ৩২টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৫৬৫ জন, ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিলসহ ২৮ টি মাদরাসায় ৪৮৩ জন এবং ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৩৩জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে কলেজ পর্যায়ে ৩১৩ জন, মাধ্যমিকে ৫০৫ জন, মাদরাসায় ৪৪১ জন এবং প্রাথমিকে ৬৯৩ জন শিক্ষক কর্মচারী টিকা গ্রহণ করেছেন। বাকি ১৭১ জন এখনও টিকা গ্রহণ করেনি। অতএব ৮.০৫ শতাংশ শিক্ষক কর্মচারি এখনও টিকা গ্রহণ করেনি।

স্থানীয়রা স্বাস্থ্য সচেতনরা বলছেন, করোনায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকার শতভাগ টিকার কার্যক্রম নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের ওই নির্দেশনা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মচারী এখনো টিকা নেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবহেলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ১২ই সেপ্টেম্বর টিকা ছাড়া কোন শিক্ষক কর্মচারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবেনা এই মর্মে আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছে এবং যারা এখনো টিকা নেয়নি তাদের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছে। এখনো যারা টিকা নেয়নি তার সঠিক কারণ আমার জানা নেই। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদেরকে টিকা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কেএম নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩৩ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ৬৯৩ জন টিকা নিয়েছেন। তবে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সদ্য বাচ্চা হওয়ায় কিছু শিক্ষক-কর্মচারী টিকা নিতে পারেননি। সরকার তাদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে তাদেরকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়া হবে।

পিএন/জেটএস


করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে