• আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুলিয়ারচরের সালুয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ইউসুফ মিয়া স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয় ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে পাঁচটিতে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে পাঁচ ইউপির চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীগন।

প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচায়-বাছাই হয়েছে ৪ নভেম্বর। প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ১১ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচায়-বাচায়ের পর থেকে শুরু হয়েছে প্রার্থীগনের প্রচার-প্রচারণা। একই অবস্থা বিরাজ করছে উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নেও। এই ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইউসিফ মিয়া।

তিনি জোরেসোরে চালিয়ে যাচ্ছে তার প্রাচার-প্রচারণা। ইতোমধ্যেই তিনি ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছে। তিনি বিগত ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬নং সালুয়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দূর্ভাগ্যের কারণে নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি। তিনি এবার এ ইউনিয়ন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী মোঃ ইউসুফ মিয়া ১৯৬২ সালের ৮ জুন সালুয়া ইউনিয়নের মধ্য সালুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ জুলমত আলী। পিতা ছিলেন এলাকার একজন সনামধন্য ব্যক্তি। ইউসুফ মিয়া নিজেও একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত।

শিশু ইউসুফ মিয়া ১৯৭০ সালে কেন্দ্রীয় প্রাদেশিক নির্বাচনে “এস বি জামান ভাই ও জিল্লু ভাই, নৌকা মার্কায় ভোট চাই” মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সালুয়া ইউনিয়ন শাখার সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ মজিদ মেম্বারের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সালুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন।

১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রবাসে ছিলেন। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি সালুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এ সময় আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে তিনি সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন।

২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকার কর্তৃক জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানের উপর গ্রেনেড হামলা ও আইভি রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে হরতালের সমর্থনে সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক মিছিলে বিএনপি বাধাঁ দিলে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১টি মামলার আসামী হয়ে নির্যাতিত হন তিনি। ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এই ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও বিভিন্ন সমাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং এখনও রয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে স্থানীয় ডুমরাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থানীয় এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাড়াও সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য ও ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত সালুয়া ঈদগাহ পরিচানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সালুয়া ইউনিয়ন উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। সালুয়া ইউনিয়ন স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ ইউনিয়ন সহ সারা উপজেলা ব্যাপী ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মোঃ ইউসুফ মিয়ার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। দলমত নির্বিশেষে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে তার ব্যক্তিত্ব।

ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন এই নেতা সাধারণ জনগনের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন স্ব-মহিমায়। কারণ, তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যাবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল ইউনিয়ন গড়ার প্রচেষ্টা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রূপকল্পে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী সাফল্য অর্জন করেছেন। কোভিড-১৯ করোনার শুরু থেকে মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে জনগণের মাঝে ত্রাণ, মাস্ক ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে এলাকার গরীব দুঃখীদের প্রিয় হয়েছেন। যার ফলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও সালুয়া ইউনিয়নবাসীর ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি।

সালুয়া ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে মোঃ ইউসুফ মিয়া বলেন, এ ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসাবে গড়তে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা ও ভৈরব-কুলিয়ারচর সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি’র সভাপতি আলহাজ্ব নজমুল হাসান পাপন- এর হাতকে শক্তিশালী করাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের পাশে ছিলাম, আছি এবং পরেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমার ইউনিয়নবাসী আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি সকলের দোয়া কামনা করে বলেন, আপনারা আমাকে ভোট দিন, আমি জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। এ সময় তিনি সালুয়া ইউনিয়নবাসী তথা সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

পিএন/জেটএস


করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে