• আজ ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

রাঢ়ীখালে হানিফ বেপারীর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি

| নিউজ এডিটর ৩:৪৯ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১৭, ২০২১ মুন্সীগঞ্জ

 

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:

দ্বিতীয় ধাপে শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়ীখাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোপনে নৌকা বিপক্ষে কাজ করার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীর আনারস প্রতীকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়া ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছ থেকে ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠে ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ বেপারীর বিরুদ্ধে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক খান বারী তুমুল প্রতিযোগিতামূলক ভোটে বিজয়ী হন। বিদ্রোহী প্রার্থী হারুন উর রশিদের পরাজয়ের পর পরই হানিফ বেপারীর আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি এলাকায় ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়।

বিদ্রোহী প্রার্থীর পুত্র নজরুল ইসলাম লিটু হানিফ বেপারীকে টাকা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনের আগে হানিফ বেপারী আনারসের নির্বাচন করার জন্য আমাদের সাথে গোপন বৈঠকে বসেন। বন্ধু জন্টু মাঝির বাড়িতে বসে ওই রাতে ৫ লাখ টাকা হানিফ বেপারীকে দেই। বাকি দুই ধাপে তাকে আরো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
তুহেল খান নামে এক যুবলীগ নেতা বলেন, এ ঘটনায় আমি ফেসইবুকে স্ট্যাটাস দিলে হানিফ বেপারী বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। টাকা গ্রহণের বিষয়ে আমার হাতে যথেষ্ট প্রমাণ ও সাক্ষী রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে হানিফ বেপারী এলাকায় ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। হানিফ বেপারীর পদত্যাগ চান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনের দুই দিন আগে যশলদিয়া এলাকায় মাঝি বাড়িতে শাহা আলম, বাবু খান ও কামাল মুন্সীর উপস্থিতিতে ফানিফ বেপারীর হাতে ৫ লাখ টাকা দেয় নজরুল ইসলাম লিটু। পরে আরো ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা হানিফ বেপারীর তার লোকজনের মাধ্যমে নেয়। কামাল মুন্সীর এক ফোনালাপে হানিফ বেপারীর টাকা গ্রহণের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর ব্যক্তি বলেন, টাকা তিনি নিয়েছেন এটা সত্য। তবে কার নির্বাচন করবেন সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

রাঢ়ীখাল ইউপির বিজয়ী নৌকার প্রার্থী আব্দুল বারেক খান বারীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নৌকার বিজয় হয়েছে। আমি লোকমুখে আর্থিক লেনদেনের কথা শুনেছি। তবে যদি কেউ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকে সেটা তার ব্যাপার।

হানিফ বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুহেল খানসহ একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার করছে। আনারস প্রার্থীর কাছ থেকে আমি কোন টাকা নেই নাই।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী তোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ শুনেছি। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে