• আজ ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় ঐতিহ্যবাহী রাসমেলায় মুখরিত সমুদ্র-সৈকত

| নিউজ এডিটর ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৯, ২০২১ পটুয়াখালী

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

কুয়াকাটায় শুক্রবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পুণ্যস্নান করবে পূন্যার্থীরা। এলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেসাধু-সন্যাসী, পুণ্যার্থে ও দর্শনার্থীরা জমায়েত হয়ে সৈকতে। দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ,দুর্দশা, হিংসা, হানাহানি, দেখে এবং দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের পালনের জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ নাম ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়। ওই যুগে ভগবান শ্রী কৃষ্ণ নিষ্কাম প্রেমের নিদর্শন রেখে যান এবং তিনি যে সর্বভূতে বিরাজ করেন তারই সাক্ষী রেখেছেন পূর্ণিমা রাতে এ রাস লীলার মাধ্যমে। সেই লীলা অনুসরণে কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নান শেষে কলাপাড়ার শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রম আঙ্গিনায় রাস মেলা চলে আসছে। পুরো সৈকত জুড়ে এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুণ্যার্থে ও দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সৈকত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্জিকা মতে ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা
এক মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হয়। আর পূর্ণিমা চলবে শুক্রবার দুপুর ১ টা ৪৭
মিনিট পর্যন্ত। এই তিথিতে পূব আকাশে সূর্য ওঠার সাথে সাথে কুয়াকাটা
পুণ্যস্নান শেষ করবেন এসব পুণ্যার্থীরা। এসব দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের
নিরাপত্তা প্রশাসনের তরফ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে
করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত আকারে হবে সকল ধর্মীয়
অনুষ্ঠানাদি এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথির
এই লগ্নে কুয়াকাটা সৈকতে হাজারো পূর্ণ্যার্থী গঙ্গা স্নানের মধ্য দিয়ে
রাস পূর্ণিমা উৎসব ও গঙ্গাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে
সাথে সাগর তীরে এ পুণ্যস্নান সম্পন্ন করে পুণ্যার্থীরা। এর পর দল বেধে
কলাপাড়া পৌর শহরে অবস্থিত শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রম আঙ্গিনায় ১৭ জোরা
রাধা কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দর্শন করবেন ও মেলায় মিলিত হবে ওইসব
পূন্যার্থীরা। এ উৎসব কেবল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ
থাকে না। এটি রূপ নেয় সাবর্জনীন উৎসবে। এদিকে গঙ্গা স্নানে আগত
পুণ্যার্থে ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সেবা প্রদানে জন্য র‌্যাব,পুলিশ এর
পাশাপাশি রিজার্ভ ফোর্স কুয়াকাটায় মোতায়েন করা হয়েছে। সুপেয় পানি,
চিকিৎসা টিম ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

কলাপাড়া রাস উৎসব কমিটির সভাপতি হীরা হওলাদার স্বপন এ প্রতিনিধিকে বলেন,
প্রতিবছরের মতো এবার সাগরের নীল জলে ধুয়ে মুছে যাবে জাগতিক পাপ এ মানুষ
কামনা নিয়ে শুক্রবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে কুয়াকাটার নীল জলে পুণ্যস্নান
করবেন। ইতোমধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে মেলায় দোকানীরা বিভিন্ন পশরা সাজিয়ে
বসেছে। এছাড়া পুরো মন্দির এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

কলাপাড়ার শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.
নাথুরাম ভৌমিক এ প্রতিবেদককে জানান, বুধবার রাত ১১ টার দিকে অধিবাসের
মধ্যদিয়ে ঐতিহ্যবাহী রাস লীলা উৎসব ও মেলার অনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
ওইরাতে মন্দির প্রঙ্গনে ১৭ জোড়া রাধাকৃষ্ণের যুগল প্রতিমা স্থাপন করা
হয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে পাঁচদিন ব্যাপী রাস উৎসব অবিরাম ভাবে চলবে। আগামী
২৩ নভেম্বর কুঞ্জভঙ্গ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: অবুল খায়ের গণমাধ্যমকে
বলেন, কুয়াকাটায় গঙ্গাস্নানকে ঘিরে পুণ্যার্থে ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার
জন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৈকতের জিরো
পয়েন্ট, মন্দির ও প্রধান প্রধান সড়কে টহল জোড়দার করা হয়েছে। এছাড়া পুরো
এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের এ এসপি আবদুল খালেক সাংবাদিকদের জানায়,
পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিভিন্ন সৈকতে পয়েন্টে টহল
জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব,পুলিশ ও গোয়েন্দ
সংস্থা কাজ করছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজ‘এ । আজই পাঠিয়ে দিন feature.peoples@gmail.com মেইলে