• আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ঘর বরাদ্দ নিয়ে উঠেছে নানা অভিযোগ

মির্জাগঞ্জে ঘর পেল স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অথচ ঘর পেলনা দুস্থ ও গৃহীনরা!

- ঘর পেল স্বচ্ছল ব্যক্তিরা অথচ ঘর পেলনা দুস্থ ও গৃহীনরা! ছবি: পিপলস নিউজ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীন অবকাঠামো (টিআর) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান ও ‘যার জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়েছেন সচ্ছল ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির স্বজন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ম্যানেজ করে এসব ঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্য্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে গ্রামীন অবকাঠামো (টিআর) বিশেষ কর্মসূচির আওতায় গৃহহীনদের জন্য দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মানের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২২টি ঘরের অনুকূলে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৮২টাকা । প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় ধরা হয় ২লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৩১টাকা।

এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ২৬টি ঘরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭৭লক্ষ ৯৬ হাজার ৩৬০ টাকা । যার প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় ধরা হয় ২লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৬০টাকা। গৃহ নির্মাণ কাজ শেষ করে ইতোমধ্যে বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়াও ঘর নির্মানে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে । এসব ঘর বরাদ্দে প্রকল্পের নীতিমালা না মেনেই যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বচ্ছল ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের স্বজনদের নামে।

আরও পড়ুন: করোনায় প্রাণ গেল আরও ২১ জনের; শনাক্ত ১৬১৫

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বরাদ্দে কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আঃ বারি মিয়া তার আপন স্বচ্ছল ভাই মোঃ খালেক সিকদারের বসতঘর থাকা স¦ত্ত্বেও তার নামেও দেয়া হয়েছে অস্বচ্ছলদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর। ভাইয়ের নামে নেয়া ঘরটি পার্শ্ববর্তী ৩নং ওয়ার্ডের কিসমতপুর গ্রামে ইউপি সদস্যের নিজ জমিতে নির্মান কাজ শেষ করে মাসিক ৭হাজার টাকা চুক্তিতে স্থানীয় বিদ্যুত বিভাগের কর্মীদের নিকট ভাড়া দিয়েছেন ঐ ইউপি সদস্য। প্রকল্পের তালিকার ১৮নম্বরে তার ভাইয়ের নামের সামনে ইউপি সদস্য মোঃ আঃ বারি মিয়ার মোবাইল নাম্বার (০১৭৭৭-০৪৭৭১৫)উল্লেখ রয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে একই ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের কৃষক দুলাল মৃধা ও মোসাঃ পারভীন আক্তার দম্পতির বসত ঘর থাকা স্বত্ত্বেও তালিকায় মোসাঃ পারভীন আক্তারকে “অসহায় বৃদ্ধা” উল্লেখ করে ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পান্না মিয়া তার নিজ জমিতে ঘর নির্মান করে বসবাস করছেন। এছাড়াও প্রকল্পের তালিকার ২২নম্বরে ঐ নারীর নামের সামনে ইউপি সদস্য পান্না মিয়ার মোবাইল নাম্বার(০১৭৮৭-২৯৯৯৭৮) রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক “হতদরিদ্র এবং জমি আছে, ঘর নেই” এমন কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জনপ্রতিনিধিরা ঘর বরাদ্দে অনিয়মের সুযোগ পেয়েছেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মোঃ আঃ বারি বলেন,আমার ভাই প্রকৃত দুস্থঃ তাই তার নামে ঘরটি নেয়া হয়েছে, বিদ্যুত বিভাগের কর্মীদেরকে মাসিক ভাড়ায় নয়,তাদেরকে কিছুদিনের জন্য ঐ ঘরটিতে থাকতে দেয়া হয়েছে। অপর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য পান্না মিয়া বলেন, ঘরটি পারভীন আক্তারের নামেই বরাদ্দ,তারা ঢাকায় থাকার কারনে আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে ঐ ঘরে থাকি।

কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, তৎকালীন ইউএনও এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সুপারিশে কিছু ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে,তাতে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা জানা নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান,ঘর বরাদ্ধের তালিকায় অনিয়ম হয়নি। কোন অনিয়মের অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন,যাচাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা ঘর বরাদ্দের তালিকা দিয়েছেন, তালিকায় কোন স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম থাকলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

, ,