=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

এমএ মামুন, সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি ডায়ালাইসিসের অধিকাংশ মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে জট বেঁধেছে রোগীদের।
গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) হঠাৎ করে সপ্তাহে দুই দিনের পরিবর্তে একদিন ডায়ালাইসিস করার ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন জেলার শতাধিক কিডনি রোগী।
অভিযোগ উঠেছে, অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে মেশিন পরিচালনা করায় হাসপাতালের ১৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি ৩টাও নষ্ট হওয়ার পথে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯টি যন্ত্রের মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে নিয়মিত কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনটি সচল মেশিন দিয়ে সপ্তাহে একদিন রোগীদের ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের কিডনি ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা ছাড়াও আশপাশের রোগীদের এখানে ডায়ালাইসিস হচ্ছে। ইউনিটে ১৯টি যন্ত্র চালু ছিল। কিন্তু ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে ১৯টির মধ্যে ১৬টি বিকল হয়ে পড়েছে। বাকি তিনটি দিয়ে একদিন কাজ চলছে। প্রতিদিন প্রতিটি যন্ত্রে দুই থেকে তিন জন রোগীর ডায়ালাইসিস হতো। ইউনিটে গড়ে ৩৫-৪০ জন রোগীর প্রতিদিন নিয়মিত ডায়ালাইসিস হয়ে আসছিল। পর্যায়ক্রমে ৬০-৭০ জন সিরিয়ালে থাকতেন। একজন রোগীর সপ্তাহে দুই দিন করে ডায়ালাইসিস হয়। যন্ত্রগুলো বিকল হওয়ায় নিয়মিত রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে তারা পড়েছেন বিপাকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডায়ালাইসিসের জন্য ২০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। এতে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা কম খরচে সেবা পান। জেলার বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী আসছেন। কয়েক মাস আগেও ১৯টি যন্ত্রের সবগুলো চালু ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে একটি একটি করে যন্ত্র নষ্ট হতে থাকে। ফলে চাপ বাড়তে থাকে বাকি যন্ত্রগুলোর ওপর। অকেজো যন্ত্রগুলো সময়মতো মেরামত না করায় বর্তমানে তিনটি চালু আছে। তা দিয়ে তালিকাভুক্ত শতাধিক কিডনি রোগীকে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বুধবার (২০ মার্চ) থেকে সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে মাত্র একটি ডায়ালাইসিস করানো হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন ঘোষণায় পর বিপাকে পড়েন রোগীরা। বর্তমানে আতঙ্কে ভুগছেন তারা।
শ্যামনগর উপজেলার বংশিপুরের আজিজ মোড়লের ছেলে জয়নাল বলেন, মা ভিক্ষা করে আমার ডায়ালাইসিস খরচ চালান। এখন যদি এখানে ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ করে দেয়, তাহলে যেকোনো সময় আমার মৃত্যু হবে। কারণ প্রাইভেট হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ডায়ালাইসিস করানোর সামর্থ্য আমার নেই।
সাতক্ষীরার সাংবাদিক জহুরুল কবীর জানান, তিনি জমি-জায়গা বিক্রি করে সাতক্ষীরা সামেক হাসাপাতালে কিডনি আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়ে আসছিলেন। ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই। কম খরচে এই হাসপাতাল থেকে ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে স্ত্রীকে কোনও রকমে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার মোবাইল ফোনে জানানো হয়েছে, বুধবার থেকে সপ্তাহে একবার কিডনি আক্রান্ত রোগীদের ডায়ালাইসিস করানো হবে। খবরটি শুনে হতভম্ব হয়ে পড়েন। বর্তমানে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
জহুরুল কবীর আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে তিন সেশনে ১২ ঘণ্টা করে ডায়ালাইসিস করানোর কথা থাকলেও যন্ত্র বিকল এবং রোগীর চাপের কারণে দুই সেশনে চার ঘণ্টা করে সপ্তাহে আট ঘণ্টা করানো হতো। এখন হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে মাত্র একটি ডায়ালাইসিস করানো হবে। সপ্তাহে চার ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করালে অধিকাংশ রোগী বাঁচবে না। খবরটি শুনে কেঁদেছি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক যোগদানের প্রায় দুই বছর হয়ে গেলো। যোগদানের পর থেকে এই সমস্যার কথা তাকে বারবার বলার পরও কোনও গুরুত্ব দেননি। ফলে এখন সবগুলো যন্ত্র বিকল হয়ে গেছে।
কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী রাবেয়া ও আসমা আক্তারের অভিযোগ, পরিচালককে দীর্ঘ দেড় থেকে দুই বছর ধরে যন্ত্রগুলো মেরামতের কথা বলে আসলেও তিনি ‘চেষ্টা করছি’ বলে সময়ক্ষেপণ করেছেন। এতে সবগুলো যন্ত্র বিকল হয়ে গেছে। এখন দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে আমাদের।
জেলা শহরের কিডনি রোগী মহিউদ্দিন, ব্রোজেন ও জয়নাল আবেদীন জানান, সপ্তাহে দুটির পরিবর্তে একটি ডায়ালাইসিস করানোর ঘোষণা দিয়ে তাদের মত আরও শতাধিক রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটের ইনচার্জ নমিতা রানী বলেন, ১৯টি মেশিনের মধ্যে একটি ভালো থাকলেও অপর দুটি মেশিনে জোড়াতালি দিয়ে চলছে রোগীদের ডায়ালাইসিস। ফলে এখন থেকে সপ্তাহে দুই অথবা তিনবার ডায়ালাইসিস দেওয়া সম্ভব হবে না।
এ ব্যাপারে সামেক হাসপাতালের পরিচালক শীতল চৌধুরী বলেন, আমাদের মোট ডায়ালাইসিস মেশিন ১৯টি। যার মধ্যে বর্তমানে তিনটি সচল আছে। নষ্ট হওয়ার কারন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অদক্ষ ব্যক্তি দিয়ে মেশিন পরিচালনা করায় মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নষ্ট মেশিনগুলো মেরামত প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। মেরামতের জন্য কয়েক দফায় টেকনিশিয়ান এসেছেন। কিন্তু খুচরা যন্ত্রাংশ না পাওয়া যাওয়ায় মেশিনগুলো ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নষ্ট মেশিনগুলো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com