কিশোর ডি কস্তা,: সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) ব্যানার ব্যবহার করে ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) চাল ও আটা অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে খাদ্য সামগ্রীসহ একটি ট্রাকের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর জন্য চ্যালেঞ্জ জানানো হলে ট্রাক চালক পূর্বের একটি চালানের কপি সাংবাদিক এর কাছে উপস্থাপন করেন। কাগজ চেক করে দেখা যায় চালান কপি গত ২২-২-২৬ এর। চালক কোন এক সাংবাদিক পরিচয়দানকারী একজনকে কল দিয়ে সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে দিলে সেই সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ট্রাক সহ খাদ্য সামগ্রী আটকের জন্য হুমকি প্রদান করে। যদি ও পরবর্তী তে সেই নাম্বার এ যোগাযোগ করলে নিজের পরিচয় না দিয়ে ফোন কল কেটে দেয়। সাংবাদিক থানায় কল দিয়ে যোগাযোগ করার সুযোগে ট্রাক চালক গাড়ির চাবি রেখে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১লা এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাংবাদিকদের একটি অনুসন্ধানী দল চানখারপুল মোড়েঅবস্থান নেয়। সূত্রে জানা যায়, খোলা ট্রাকে করে ওএমএসের খাদ্যসামগ্রী কালোবাজারী করে অন্যএ রিফাইন করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
পরবর্তীতে সন্দেহভাজন ট্রাকটি চানখারপুল এলাকা অতিক্রম করলে সাংবাদিক দল মোটরসাইকেলযোগে সেটির পিছু নেয় এবং নজরদারি চালাতে থাকে। একপর্যায়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে সিটি করপোরেশনের অফিসের সামনে ট্রাকটি খাদ্য সামগ্রীসহ থামিয়ে মাল চালান দেখতে চাওয়া হয়।
আটককৃত ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ কেজি করে ৮৫ বস্তা চাল এবং ৫০ কেজি করে ৬০ বস্তা আটা পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের চোখ ফাঁকি দিতে ট্রাকটির সামনে টিসিবির ব্যানার টানিয়ে এ পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।
ঘটনার সময় ট্রাকচালক খাদ্য সামগ্রী বহনের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে গত ২২-০২-২০২৬ তারিখের একটি চালান দেখিয়ে মালামালের বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা করা হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়।
ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হলে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি জব্দ করে। তবে এর আগেই ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়।পুলিশ খাদ্য সামগ্রীসহ ট্রাক জব্দ করে এবং জব্দ তালিকায় উপস্থিত দুইজন সাংবাদিক স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে—ঘটনা ধামাচাপা দিতে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ট্রাক মালিক প্রথমে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে নামধারী কিছু সাংবাদিককে দিয়ে ফোন করে হুমকি প্রদান করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানায়, জব্দকৃত ট্রাক ও মালামাল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com