
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে, ইসরায়েল নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়ালে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তেহরান থেকে প্রকাশিত তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি জানিয়েছে আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। তিনি বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানে যে, ইরানের পূর্ণ সামরিক নজর তাদের ওপর পড়লে তা দেশের জন্য কঠিন পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
মোহেব্বি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভুল তথ্য দিয়ে এবং উসকানি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চাইছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তেল আবিব নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তেহরান তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে মার্কিন বাহিনীর ইরানে বিমান হামলা এবং ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, তারা বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলে নতুন সংঘাতের সূত্রপাত হয়। যদিও ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১৭ জুন ইসলামাবাদে আলোচনার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শত্রুতা বন্ধে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, কিন্তু সেই সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এখন ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে ইসরায়েল নতুন করে যুদ্ধে জড়ালে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আঞ্চলিক সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com