ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও নাহিদুজ্জামান শিপনকে সভাপতি-সম্পাদক করে ঘোষিত এক বছরের কমিটি ইতোমধ্যেই তিন বছরে পা রেখেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গেই ঢাবিরও নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা
কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য একঝাঁক ছাত্রনেতা দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, ত্যাগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতারা। ঢাবি ছাত্রদলের শীর্ষ পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিগত কমিটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা।
২০১২-১৩ সেশন থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে পারেন বর্তমান ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আলম ভূঁইয়া ইমন। ১৩-১৪ সেশন থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান।
১৪-১৫ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ খান এবং আলমগীর হোসেন আলম।
২০১৫-১৬ সেশন থেকে শীর্ষ পদের আলোচনায় আছেন দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি, যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান বিজয় এবং আবিদুল ইসলাম খান। পাশাপাশি ২০১৬-১৭ সেশন থেকে আলোচনায় আছেন সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জিসান এবং শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।
হাইকমান্ডের কঠোর বার্তা
বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের কমিটিতে কোনো ধরনের অছাত্র বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে জায়গা দেওয়া হবে না। নিয়মিত, মেধাবী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতাদের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হবে। নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার কাছে অফিসিয়ালি কমিটির তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা
বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের দাবি, বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ক্যাম্পাসে এবং রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তাদেরই যেন মূল্যায়ন করা হয়। কোনো সিন্ডিকেট বা পকেট কমিটি যেন না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বি এম কাওসার বলেন, ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করে। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করাই ছাত্রদলের মূল লক্ষ্য। দায়িত্ব পেলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করব।
দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ইউনিটটির রাজনীতিকে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিকায়ন ও এর সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে সম্মুখসারি থেকে ভূমিকা রাখতে পারবে এমন নেতৃত্বই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা আশা করেন। নিজ মেধা ও মননের পরিচয় দিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করার গুণাবলিও আগামীর নেতাদের মধ্যে আশা করি আমরা। দল সেসব বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্ব বাছাই করবে এটাই প্রত্যাশা।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com