
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার সাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং আলিফের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। শিগগিরই জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে আলিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে আলিফের ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, তার শরীরে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। অন্য একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল, যা শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের সময় বের করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল এলাকার তেলনজিয়া গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে আলিফকে গুলি করা হয়।
স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত অনিন্দিতা সাংমা। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এভাবে একজন মানুষকে কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে মেরে ফেলবে, তা আমি কখনো ভাবতে পারিনি। বাচ্চাদের যখন ভাত খাওয়াচ্ছিলাম, তখন গুলির শব্দ পেয়ে প্রথমে ভাবছিলাম কেউ হয়তো পটকা ফুটাচ্ছে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মানুষ বলাবলি করলো, তাকে (আলিফ) মেরে ফেলছে।’
স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে অনিন্দিতা বলেন, ‘আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাবো না। তবে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। গ্রামটিতে গারো সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস বেশি। আলিফের ফুপুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, ঘটনার সময় তারা বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দোকানের দিকে ছুটে গিয়ে আলিফকে মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তারাও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com