
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন নাহিদুর রহমান। তার গ্রামের বাড়ি যশোরের মনিরামপুরের মোহনপুর। কর্মসূত্রে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করা নাহিদ ছুটিতে ঘুরতে গিয়েছিলেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। ভ্রমণ শেষে বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকায় ফেরার কথা ছিল তাদের।
তবে সেই ফেরা আর হয়নি। শনিবার (১৮ অক্টোবর) ইনানীর ‘টুপপুট রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে’ আগুন লাগার পর থেকে খোঁজ ছিল না নাহিদ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের। অবশেষে রোববার জানা গেল, আগুনে পুড়ে প্রাণ গেছে একই পরিবারের চারজনের।
নিহতরা হলেন মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছোট ছেলে নাহিদুর রহমান তুহিন (৪১), নাহিদের স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। তবে চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য স্বজনদের ডিএনএ নমুনা নিয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের আগে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে নাহিদুরের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল বাবা মতিয়ার রহমানের। ‘সি বিচে আছি, বাচ্চারা খেলা করছে’—শেষ ফোনালাপে বাবাকে এ কথাই বলেছিলেন নাহিদুর রহমান।
রোববার দুপুরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নাহিদুরের ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওরা আর নেই। অঙ্গার হয়ে যাওয়া লাশের আকার-আকৃতি দেখে ভাই-ভাবি ও তাদের দুই মেয়েকে চিনতে পেরেছি। তবে চূড়ান্ত শনাক্তের জন্য আমার ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকায় বসবাস করছিলেন নাহিদ। তিনি শ্যামলীর ‘গ্র্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা হন তিনি। শুক্রবার তারা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে ওঠেন।
কক্সবাজারের ‘টুপপুট রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিলের কপিতে দেখা যায়, নাহিদুর ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের একটি কক্ষ বুকিং করেছিলেন। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল।
নাহিদুর রহমানের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, এ মূহুর্তে তিনি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার তার কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার পর জানা যাবে নিহতের মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্য রয়েছে কি না।
নাহিদের অপর চাচাতো ভাই রিয়াজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকেই তার ভাইয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। শনিবার সকালে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তার স্ত্রী তানজির ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তাদের মোবাইলের সর্বশেষ লাইভ লোকেশন টুপটুপ রিসোর্টেই দেখাচ্ছিল।
রিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সারাদিন খোঁজ করেও ভাই ও তার পরিবারের সন্ধান পাইনি। শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের ওয়াশরুম থেকে জড়াজড়ি অবস্থায় চারজনের দগ্ধ লাশ উদ্ধারের পর আমরা ধরে নিয়েছি, তুহিন ভাই, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে বেঁচে নেই। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আমাদের পরিবারসহ পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।’
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com