
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্যের অভিযোগে আটক বাবা ও ছেলের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। স্বজনদের দাবি, ২১ অক্টোবর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর থেকে আয়নাল হক ও তার ছেলে আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, কী অবস্থায় আছেন, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাচ্ছে না পরিবার। তবে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৫) জানিয়েছে, আটকের পর তাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকার বাড়ি থেকে আয়নাল হক ও তার ছেলে আবু বকর সিদ্দিককে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
আয়নাল হক পেশায় কৃষক। তার ছেলে আবু বকর সিদ্দিক রাজশাহীর নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
আয়নাল হকের ভাই ইকরাম আলী বলেন, ‘২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমার ভাই ও ভাতিজাকে বাসা থেকে নিয়ে যায়। বলা হয়েছিল, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কিন্তু এরপর থেকে তাঁরা কোথায় আছেন, তা আমরা জানি না।’
আয়নাল হকের স্ত্রী আসমা খাতুনও স্বামী ও ছেলের খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এসআরবি-৫ তাদের নিয়ে গেছে। এখন তারা কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কিছুই জানি না। মাঝেমধ্যে থানা থেকে পুলিশ এসে খোঁজখবর নেয়, কিন্তু তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারিনি।’
এসআরবি-৫’র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আয়নাল হক ও আবু বকর সিদ্দিককে আটকের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদেরকে এরেস্ট করিনি। এ বিষয়ে আমরা কোনো কিছুই বলতে পারব না।’
স্বামী ও ছেলের অবস্থান জানতে এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন আসমা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ও ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিন। তারা কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কিছুই জানতে পারছি না। যেভাবেই হোক তাদের সঙ্গে একটু কথা বলার ব্যবস্থা করে দিন।’
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবু বকর সাধারণ ও সাদাসিধে স্বভাবের ছেলে হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। তবে অনলাইন গেমের প্রতি তার অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাকিব বলেন, আবু বকর দিনের বেশির ভাগ সময় গেম খেলতেন। বাবার ভ্যান চালানোর সময়ও সুযোগ পেলেই গেম খেলতেন এবং এ নিয়ে তাকে বকাঝকাও করা হতো।
প্রতিবেশী মোহাম্মদ আরিফ উদ্দিন বলেন, আবু বকর খুবই সরল ও সাদাসিধে। সে ফ্রিফায়ার গেমে আসক্ত ছিল। খাওয়া দাওয়ার সময়ও ঠিকমতো খেয়াল করত না।
কালবেলা অনুসন্ধানে আবু বকরের নামে ব্যবহৃত একটি অনলাইন গেমিং প্রোফাইলের তথ্য পাওয়া গেছে। শূন্যজীবন নামের ওই প্রোফাইলে লেভেল ৬৪। লাইক ৪ হাজার ৪৩৭, হিরোইক ১ ও প্রাইম ১ র্যাংকিং উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ১৭ বার ‘হিরোইক’ অর্জনের তথ্যও দেখা গেছে।
তবে প্রোফাইলটি নিশ্চিতভাবে আবু বকরের কি না, এর মালিকানা এবং ফেসবুকে করা মন্তব্যের সঙ্গে তার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com