
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বিএসএফ গুলিতে আহত বাংলাদেশি নাগরিক মনিরুল পশ্চিমবঙ্গের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার কাছ থেকে প্রায় তিন কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানা যায়।
গত শুক্রবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর ও ভারতের নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার টুঙ্গি সীমান্ত এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
গুলির পর আহত বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ
স্থানীয় ও বিএসএফ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলামসহ ৭ জনের একটি চোরাকারবারি নদীপথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে সোনা পাচারের উদ্দেশ্যে কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যায়।
এ সময় টুঙ্গি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ জওয়ানরা তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে থামার নির্দেশ দেন। তবে জওয়ানদের সতর্কবাণী ও নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ শূন্যে গুলি ও রাবার বুলেট চালায়।
এতে মনিরুলের ডান পায়ে গুলি ও পিঠে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএসএফ তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে টুঙ্গি ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং দেহ তল্লাশি করে প্রায় ৩ কেজি সোনা জব্দ করে।
এদিকে, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মনিরুলের অপর ৬ সহযোগী সাঁতরে ও খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
পালিয়ে আসা সহযোগীরা হলেন- একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
পরবর্তীতে জওয়ানরা সীমান্তে গুলিবিদ্ধ মনিরুলকে দ্রুত উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ভারতের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে (Government of west bengal nadia district hospital krishnagar India) স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে ওই হাসপাতালেই পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাংলাদেশি যুবক। তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হরিহরনগর গ্রামের বাসিন্দা।
আহত যুবক সুস্থ হলে বিএসএফের পক্ষ থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জানার চেষ্টা করবে এই কাজের সাথে কারা কারা যুক্ত। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কোথায় পাচার করার কথা ছিল, কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। প্রয়োজনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।
আরও জানা যায়, কালীপুজোর ঠিক মুখে সীমান্তে বড়সড় একটি পাচার চক্রের ছক ভেস্তে দিল বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এই পাচারের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ ব্যাপারে অধিনায়ক পর্যায়ে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানান বিজিবি।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক পেশাদারিত্ব, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। একইসাথে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
আহত মনিরুলের স্ত্রী রিমা খাতুন জানান, তার পরিবার এখনো তার খবর জানে না। সরকারের এবং প্রশাসনের নিকট তিনি দাবি করেন দ্রুত সময়ে তাকে যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ বয়সে তার অসুস্থ বাবা তার মুখ দেখে মরতে চান। তার খুবই অসহায় দিন যাপন করছেন।
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, সীমান্তে গুলির ঘটনায় একজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আমরা ভারতীয় বিএসএফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। যোগাযোগ সম্পন্ন হলে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ :
বাসা নং-১৯, ৫ম তলা, রোড-৭/এ,
ব্লক-বি, বারিধারা, গুলশান, ঢাকা-১২১২
সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমা সুলতানা নীলা
মোবাইল: ০১৬২২৩৯৩৯৩৯
ইমেইল: nazmaneela@gmail.com