• আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্ত্রী-সন্তানকে দিয়েই মই টানালেন অসহায় কৃষক

| নিউজ রুম এডিটর ১:৪২ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ৯, ২০২১ ভিন্ন ম্বাধের খবর
-স্ত্রী-সন্তানকে দিয়েই মই টানালেন অসহায় কৃষক । ছবি: সংগৃহীত

অর্থাভাবে ঠিকমতো সংসার চলে না ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ছোট কাশর গ্রামের দরিদ্র কৃষক আবু বকর সিদ্দিকের। বোরো ধান আবাদের জন্য জমি তৈরির চেষ্টা করছেন।

কিছু টাকা দিয়ে কোনো মতে নিজের ৩৫ শতাংশ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করিয়েছেন। কিন্তু নিজের গরু না থাকায় মই দিতে পারছিলেন না। এছাড়া টাকাও নেই যে ট্রাক্টর দিয়ে মই দেবেন। ধার-দেনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে গত ৭ জানুয়ারি স্ত্রী ও সন্তানকে দিয়ে মই টানিয়ে চারা রোপনের উপযোগী করেছেন জমি।

তাদের মই টানার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় উৎসুক মানুষ ছবি তুলে ফেসবুকে দিলে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, স্ত্রী ও সন্তান দড়ি লাগিয়ে মই টানছেন। আর আবু বকর সিদ্দিক মইয়ে চাপ দিয়ে মাটি সমান করছেন।

কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। মেজো ছেলে ঢাকায় গার্মেন্টসে ছোট চাকরি করে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ছেলে মাহাদী হাসান সুমন স্থানীয় একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে।

তিনি জানান, বোরো আবাদের জন্য ৩৫ শতাংশ জমি ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ করালেও টাকার অভাবে ক্ষেতে মই দিতে পারছিলেন না। ধার-দেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। পরে নিরূপায় হয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে দিয়ে মই টানিয়ে জমি চারা রোপণের উপযোগী করেছেন। আবু বকরের বড় ছেলেও কৃষিকাজ করেন। কিন্তু নিজের পরিবারের ভরণপোষণের পর বাবাকে সাহায্য করার মতো আর্থিক অবস্থা নেই তার।

আবু বকর সিদ্দিকের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, কোনো উপায় না দেখে স্বামীর সঙ্গে কাজ করছেন। এতে তার কোনো লজ্জা নেই। নিজের কাজ নিজে করছেন। সবসময় তো করতে হয় না। এখন একটু সমস্যা হয়েছে বলে ছেলে নিয়ে মই টেনে স্বামীকে সাহায্য করেছেন। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় ছোট ছেলে সুমনেরও কাজ করতে সমস্যা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নারগিস আক্তার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি খুবই পীড়াদায়ক। ওই কৃষকের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তাকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব সহায়তা দেওয়া হবে।

পিএন/এএমএস


করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন পিপলস নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - feature.peoples@gmail.com