১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বুধবার

রাবির চারুকলায় বসন্তের ছোঁয়া

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২০

| আশিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সময়ের আবর্তে দিনের পর দিন মাসের পর মাস পেরিয়ে বছরের শেষে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রকৃতি তাকে ফুলে ফুলে সাজিয়ে তুলে। পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। প্রাণচা ল্য দেখা দেয় প্রকৃতিতে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বসন্তকে স্বাগত জানাতে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণের সম্মুখভাগের দেয়াল সাজতে শুরু করেছে নতুন সাজে।

দেয়ালটির গায়ে ছোঁয়া লাগছে হরেক রকমের রঙ তুলির। লাল, নীল, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙের তুলিতে তৈরী হচ্ছে দেয়ালচিত্র, রঙিন হচ্ছে ক্যানভাস। একেকটা ক্যানভাস একেকটা ইতিহাসের সাক্ষী। যা আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছে ৪৩-র ভয়াবহ সেই দুর্ভিক্ষের কথা। আরো মনে করিয়ে দিচ্ছে ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধকে।

আর এসব চিত্রকর্মে মিশে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের একঝাঁক চারুশিল্পীর হাতের ছোঁয়া। লম্বা দেয়ালটিতে রয়েছে ৬০টিরও অধিক ছোট ছোট ভাগ। প্রতিটি ভাগে আলাদা সব ক্যানভাস। প্রতিটি ক্যানভাস তৈরির জন্য চারুশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ শিরিশ কাগজ দিয়ে ঘষে দেয়ালকে মসৃণ করে নিচ্ছেন। কেউ চক বা পেন্সিল দিয়ে নির্ধারিত চিত্রকর্মের খসড়া তৈরি করছেন। কেউ আবার প্লাস্টিকের পাত্রে রঙ তৈরি করছেন। সেই রং দিয়ে সাদা দেয়াল রাঙিয়ে তুলছেন চারুশিল্পীরা। কোনো ক্যানভাসে জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষের আঁকা ছবি, আবার কোনো ক্যানভাসে পটুয়া কামরুল হাসানের ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ মতো চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

দেয়ালের পাশে বসে প্রথমবারের মতো লিওনার্দো দ্য ভিি ‘র ভিট্রুভিয়ান ম্যানের দেয়ালচিত্র করছিলেন অনুষদের ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তীর্থ কান্তি প্রামানিক। জানতে চাইলাম এতো চিত্রকর্ম থাকতে ভিট্রুভিয়ান ম্যান কেন? একটু মুচকি হেসে জানালেন, বিদেশি চারুশিল্পীদের মধ্যে তার ভিি সবচেয়ে প্রিয়। এই চিত্রটি দিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীরা মানুষের দেহ অবয়ব আঁকতে শিখেন, আর প্রথমকাজ স্মরণীয় করে রাখতে তার এই বিখ্যাত চিত্রকর্ম বেছে নিয়েছেন তিনি।
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রাহুল দেবনাথ নামের অনুষদের চতুর্থ বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী।

ছোটদের সবাইকে ভালোভাবে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছিলেন তিনি। তার কাছে গিয়ে বসন্ত বরণকে ঘিরে চারুকলা অনুষদ এবার কি কি করবে জানতে চাইলাম। বললেন, আমরা কয়েক বছর ধরে বসন্ত বরণ ও পিঠা উৎসব পালন করে আসছি। প্রতিবছর একদিন এ উৎসব পালিত হলেও এবার সেটা আমরা দুই দিনব্যাপী করব। পাশাপাশি আমরা এবারে বসন্তেও যাত্রা পালা করব। আমাদের আগেই পরিকল্পনা ছিলো চারুকলার সামনের পুরো দেয়াল জুড়ে দেয়ালচিত্র করবো। আর সেটার জন্য বসন্তের আগের সময়কে ঠিক করেছি কারণ এসব কাজ আমাদের মাঝে উৎসবের আমেজটাকে আরো বৃদ্ধি করবে।

চারুকলা মে র দিকে ঘুরতে গিয়ে দেখা গেল যাত্রাপালার অনুশীলন চলছে। সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে আনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহিন। তিনি জানালেন, এবারে চারুকলায় ম স্থ হবে ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘আনার কলি’। যাত্রাপালায় সম্্রাট আকবরের ছেলে সেলিম যখন যুবক, তখন তাদের রাজ্যে জহুরত নামের এক বাইজী আসেন। ঘটনাক্রমে তার নাম হয় আনার কলি। তার রূপ-লাবণ্য দেখে সেলিম তার প্রেমে পড়ে যায়। একপর্যায়ে সম্রাট আকবর নিজেই তার প্রেমে পড়েন। সবশেষে বাপ-ছেলে দুজনে যাতে না পায় তাই আনার কলিকে দেয়ালের সাথে জীবিত কবর দেয়া হয়।#

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: