ঢাকা, ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রাবিতে তিন শিক্ষকের নিয়োগ স্থগিত

প্রকাশিত: সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ ৭:০৯ অপরাহ্ণ  

| আশিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের তিন শিক্ষকের নিয়োগ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

সেইসঙ্গে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। চার সপ্তাহ পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানী হবে বলে জানিয়েছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসাইন।

এরআগে, গত ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯৭তম সিন্ডিকেট সভায় রেজভী আহমেদ ভূঁইয়া, শামসুন্নাহার ও মোক্তার হোসেন নামের ওই তিন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২৮ জানুয়ারি তাদের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে নিয়োগ বাতিল করেন হাইকোর্ট। পরে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের আপিলের ভিত্তিতে সোমবার মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হস্তান্তর করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহ পরে মামলার শুনানীর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। শুনানীর আগ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার আলতাফ হোসাইন।

এদিকে হাইকোর্টের পূর্বের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই তিন শিক্ষককে বিভাগে যোগদান করিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৭ জানুয়ারি বিশ^বিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে তাদের নিয়োগের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তারা সোমবার বিভাগে ক্লাস নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ক্রপ সায়েন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

এবিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তিন শিক্ষককে বিভাগে যোগদান করানো হয়েছে। তারা এখন বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায়কে উপেক্ষা করে তাদের বিভাগে যোগদান করানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের বিষয়। আমি এবিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৬ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় ওই তিন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হলেও পরবর্তীতে হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছিল।

এবিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এমএ বারীর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার দফতরে গিয়ে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এরপর এই প্রতিবেদক দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে দফতরের বাইরে তার দেখা পেলেও তখনও তিনি কোনও কথা বলতে চাননি।

বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাড়া দেননি। পরে তার দপ্তরে যোগাযোগ করলে তিনি দেখা করতে পারবেন না বলে দপ্তর থেকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ক্রপসায়েন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তখন ৩৮ জন আবেদন করলেও সেই বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ হয়নি। অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হয়ে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা শিথিল করেন ও ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই বিভাগটিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য পুনঃসংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে । সেখানে ৪৭ জনের আবেদন জমা পড়ে। পরে বিভাগের শিক্ষক ও প্ল্যানিং কমিটির সদস্য অধ্যাপক মু. আলী আসগর নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। যার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ আগস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত ২৬ জানুয়ারি ৪৯৭তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন বিজ্ঞপ্তির আলোকে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। ২৮ জানুয়ারি তাদের নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে নিয়োগ বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট।#

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ