১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং, বুধবার

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি রাবি ছাত্রলীগের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

| আশিক ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বান্ধবীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ শারুদসহ অভিযুক্ত সকলের সব্বোর্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে অভিযুক্ত মাহফুজ শারুদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন হল, অনুষদ ও বিভাগের তিন শতাধিক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মেয়েটি তার বন্ধুর দ্বারা ধষর্ণের শিকার হয়েছে। বন্ধুর কাছে যদি বান্ধবী নিরাপদ না হয়, তাহলে বিশ্বাস করা যায় কাকে? তিনি আরও বলেন, সামাজিক সচেতনতা পারে এসব অপরাধ থেকে মুক্তি দিতে। প্রত্যেক অন্যায় বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই অপরাধের সাথে জড়িত সকলের বিচার দাবি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জানান তিনি।

রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছি। আমরা আমাদের বোনদের নিরাপত্তা দিতে পারছি না। ভাবতে খুব খারাপ লাগে যে আমরা ধর্ষকের নিন্দা না করে ভুক্তভোগীর দিকেই আঙ্গুল তুলি।’ এসময় ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি ও ধর্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার দাবি জানান তিনি।
বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি কাজী লিংকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনায়েত রাজু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল সরকার রুবেল, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ দুর্জয় ও ছাত্রলীগ কর্মী জান্নাতুন নাঈম আকন্দ জানা প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮ টার দিকে গল্প করার কথা বলে শারুদ তার বান্ধবীকে কাজলা সাঁকপাড়া এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়।

এসময় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন শারুদ। এমনকি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কৌশলে শারুদের বন্ধু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পড়ুয়া প্লাবন সরকার, রাফসান; কাজলা এলাকার জয়, জীবন ও বিশাল মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ শেষে ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। পরে টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে জানালে ২৭ জানুয়ারি দুপুরে মা-বাবার সঙ্গে মতিহার থানায় যান ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ছয় জনকে আসামী করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

আরও পড়ুন

%d bloggers like this: