ঢাকা, ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মোবাইল ফোন এবং তার অপব্যবহার

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ  

| আব্দুল্লাহ্ আল আমিন, জামালপুর সংবাদদাতা

মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। স্রষ্টা মানব জাতিকে জ্ঞান দানের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ বানিয়েছেন। আর এই জ্ঞান ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব জয় করেছে মানুষ। অতীব পরিতাপের বিষয় , আজ মানুষ আবার যেন সভ্য থেকে অসভ্য হয়ে পড়ছে। সভ্যতার অপব্যবহারে মানুষ গবেষণা লব্ধ লাভজনক বিষয়বস্তু কে কুরুচিপূর্ণ করে তুলছে। মানব জীবনের প্রতিটি পরতে যেখানে চিন্তা চেতনাকে কাজে লাগিয়ে চলা প্রয়োজন,সেখানে মানুষের স্বভাব যেন দিনদিন অসভ্য,অভব্য হয়ে পড়ছে। মানবসভ্যতার বিস্ময়কর বিকাশে বিজ্ঞান যে অনন্য ভূমিকা পালন করছে, তার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো মোবাইল ফোন।

তথ্য আদান-প্রদানে মোবাইল ফোন যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। মোবাইল ফোন আমাদের জীবনে গতি আনলেও এর অপব্যবহারের কারণে প্রতিনিয়তই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে একধরনের ভীতি।

মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন অনৈতিক কাজ। অবিবাহিত যুবক-যুবতীগণ তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে অবৈধ প্রেমের নেশায় মত্ত হয়ে উঠছে। তারা অভিভাবকদের ফাকি দিয়ে অবৈধ প্রেমের নেশায় জরিয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কাজে। অনেকে আবার এসব অসামাজিক কাজের ভিডিও ইন্টারনেটে ছরিয়ে দিয়ে সমাজে বিভিন্ন অপরাধের জন্ম দিচ্ছে, অনেক এ কাজের স্বীকার হয়ে মৃত্যুর পথকে বেছে নিচ্ছে।

এছাড়াও বিবাহিত নারী-পুরুষরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জরিয়ে যাচ্ছে পরকীয়ায় যার খেসারত দিতে হয় একটা পরিবারকে।

এ ছাড়াও তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডুবে যাচ্ছে পর্নোগ্রাফিতে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এখন পুরো দুনিয়ায় হাতের মুঠোয়। আমাদের দেশের উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা কৌতূহলের বসে পা বাড়ায় নীল দুনিয়ায়। পর্নোগ্রাফি দেখে তারা জরিয়ে যায় বিভিন্ন অপকর্মে এবং প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির স্বীকার হচ্ছে স্কুল/কলেজ গামী মেয়েরা।

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছে ফেসবুক ব্যাবহার করে। ফেসবুকের কল্যাণে বিভিন্ন ভাবে ছেলে-মেয়েরা বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে এবং গভীর সম্পর্কে জরিয়ে যাচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে সহজেই ছবি সহ ভিডিও আদান প্রদান করা যায় অনেক উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা আবেগের বশীভূত হয়ে নিজের ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করছে নিজেদের মধ্য। অনেকে সেই ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা।

আমাদের সমাজকে ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে আমাদের সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। এজন্য আমাদের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে সবার আগে। আমাদের ছেলে-মেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে বন্ধুত্ব করছে, স্কুল/কলেজে নিয়মিত যাচ্ছে কিনা সব বিষয়ে আমাদের নজর রাখতে হবে।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ