ঢাকা, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মান্দার কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সাজেশন নিতে গিয়ে শিক্ষকের লালশার স্বীকার ছাত্রী, শিক্ষক বহিস্কার!

প্রকাশিত: শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২০ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ  

| মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ থেকে

নওগাঁর মান্দায় কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ছাত্রী সাজেশন নিতে গিয়ে শিক্ষকের লালশার স্বীকার হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দোষ স্বীকার করে লিখিতভাবে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দিয়ে পলাতক রয়েছেন বলে গেছে।

এরই প্রেক্ষিতে অত্র বিদ্যালয়ের কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও তাকে বহিস্কার করা হয়।

জ্ঞান বুদ্ধি বাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে একসাথে অনেকগুলো ঘুমের ঔষুধ বিভিন্ন নামের ঠান্ডা পানীয়ের সাথে মিশিয়ে খাইয়ে একাধিক ছাত্রীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক তৈরির অভিযোগ উঠেছে রেজাউল হক নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত রেজাউল হক মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক । ওই সময় তার সহযোগী হিসেবে সুইট নামের আরেক সহকারি শিক্ষক বাহির থেকে পাহারা দিচ্ছিলেন এবং একপর্যায়ে সেও এই অপকর্মে লিপ্ত হয় বলে জানান স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। সুইট শিক্ষকতার পাশাপাশি একমি কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ (বুধবার) স্কুল ছুটির দিন বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে সাজেশন দেওয়ার কথা বলে বিদ্যালয়ে ডেকে নেয়। এরপর ওই শিক্ষক ছাত্রীটিকে মেধা এবং জ্ঞান বৃদ্ধির কথা বলে কৌশলে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ঘুমের ঔষুধ খাওয়ায়। পরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে কাজ করা কিছু শ্রমিকরা তাদেরকে টিনের একটি শ্রেনী কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় । এরপর বিষয়টি জানতে পারে স্থানীয়রা।

পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় ঘটনার ১দিন পর ২৭ মার্চ শুক্রবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ওই শিক্ষক গত শুক্রবার থেকে পলাতক রয়েছে। এতে করে ওই এলাকাবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক আব্দুল মতিন বলেন গত বুধবার (২৫মার্চ) শিক্ষক রেজাউল প্রথমে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে একটি আমের গাছের নিচে কিছুক্ষণ গল্প করেন। এরপর টিন শেটের একটি খোলা শ্রেণী কক্ষের মধ্যে নিয়ে যায়। এরপর আমার সন্দেহ হলে কক্ষের খোলা জানালা দিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পাই। এছাড়াও আরো দুইজন শিক্ষক রেজাউলের সঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তারা রেজাউলকে পাহারা দিচ্ছিলেন। এরপর বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে স্থানীয়রা এসে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে আর শিক্ষক পালিয়ে যায়।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষক রেজাউল হক এরকম কাজ বারবার করে আসছে। এর আগে এক ছাত্রীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর ওই ছাত্রীর সাথেই তাকে বিয়ে দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দিলেও থেমে থাকেনি তার এইসব অপকর্ম। স্কুলে প্রাইভেট-কোচিংয়ের সুযোগ নিয়ে সুন্দরী ছাত্রীদের মেধা এবং জ্ঞান বৃদ্ধি হবে এমন মিথ্যা কথা বলে প্রথমে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও ঘুমের ঔষুধ খাওয়ায় ওই শিক্ষক।

তারপর ওই ছাত্রীর সাথে সেক্সুয়াল কথা বার্তা বলে যৌন উত্তেজিত করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেন শিক্ষক রেজাউল হক। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ বুধবার সকাল ১০টায় স্কুল ছুটির দিন স্কুলের একটি কক্ষে একই ঘটনা ঘটিয়েছে মা হারানো ১০ম শ্রেনীর এক ছাত্রীর সঙ্গে। এই ঘটনায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক এক জরুরী সভার মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে ওই ছাত্রীর বাবা এমদাদুল হক বলেন, আমার মেয়েসহ তার কাছে প্রাইভেট পড়া অনেক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন যাবত ধরে সিংগী হাটের এসএম খয়ের আলী নামের স্থানীয় এক ঔষুধের দোকানদার এবং কাছ থেকে ঘুমের ট্যাবলেট সংগ্রহ করে খাইয়ে আসছে ওই শিক্ষক। কিন্তু বিষয়টি সম্প্রতি এই ঘটনার পর জানতে পেরেছি। আমি ওই লম্পট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

একই অভিযোগ পাওয়া গেছে ৯ম-১০ম শ্রেনীতে পড়ুয়া একাধিক শিক্ষার্থীর বাবা-মার কাছে। তবে ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করেন সিংগীহাট পোষ্ট অফিসের ঔষুধের দোকানদার,ডাক্তার এসএম খয়ের আলী।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক রেজাউল হক বলেন ওই দিন শিক্ষার্থী আমার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কিছুই হয়নি। এটি সম্পন্ন মিথ্যা এবং বানোয়াট।

কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকসেদ আলী প্রামানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে রেজাউল হককে ডেকে এবিষয়ে ব্যাখা চেয়েছিলাম। রেজাউল তার অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে বলেছেন ভবিষ্যতে তিনি এমন কাজ আর করবেন না।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আল-মামনুর রশিদ ওরফে আলম বলেন, গত ২৫ তারিখের ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি প্রধান শিক্ষককে জরুরি সভা কল করতে বলেছিলাম। এরপর ২৭ তারিখের ওই সভায় শিক্ষক রেজাউল হক তার অপরাধ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দেন। শনিবার (২৮ মার্চ) সভার পরবর্তী দিন ধার্য্য করা হয়েছে। তার বিষয়ে সেদিন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সে মোতাবেক অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়।

মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহ আলম শেখ বলেন এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ লিখিত ভাবে অভিযোগ করে নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মান্দা থানার তদন্ত ওসি তারেকুর রহমান সরকারও বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

এঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ এবং ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই শিক্ষকের এই ঘটনাটিই প্রথম নয়। এরকম ঘটনা অনেক রয়েছে। কিন্তু বিগত সময়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের উদাসীনতার কারণে এই লম্পট শিক্ষক বার বার এই রকম লজ্জাজনক ঘটনার পরও পার পেয়ে যাচ্ছে। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে আমাদের মেয়েরাতো নিরাপদ নয়। স্থানীয়রা অতিদ্রুত এই লম্পট শিক্ষকের চিরস্থায়ী বিদায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ