ঢাকা, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কয়রায় ঘূর্ণিঝড়” আম্পান “এর তান্ডবকালীন সময়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম

প্রকাশিত: শুক্রবার, মে ২২, ২০২০ ১০:৫৬ অপরাহ্ণ  

| অমিত কুমার ঢালী, খুলনা

বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গোটা বিশ্ব যখন ভীত সন্ত্রস্ত ঠিক তার রেশ কাটতে না কাটতে আর একটি মহাপ্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড়” আম্পান ” এর আভাস পাওয়া যায়। এ মহাপ্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড় “আম্পান ’ নিয়ে আতঙ্ক ক্রমশ বেড়ে চলছিল কয়রা উপজেলাবাসীর মনে । বিশেষ করে বেড়িবাঁধ ভাঙা জনপদ কয়রার ৭টি ইউনিয়নের মানুষ জলোচ্ছ্বাসের আতঙ্কে সময় পার করছিল।

নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও বাঁধের কাছাকাছি মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল, চলছিল সচেতনতা মূলক প্রচারণা। ১৯মে ২০২০, সকাল থেকে কয়রার আকাশ কিছুটা রোদ আবার কিছুটা মেঘাছন্ন । কিছু সময় থমথমে গুমোট ভাব বিরাজ করছিলো। ঐ তারিখ মাঝ রাত থেকে আম্পান প্রভাব কিছুটা লক্ষ্য করা যায়। কিছু সময়ের ব্যবধানে রাত থেকে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত সংগঠিত হয়। ২০ মে ২০২০ তারিখ সকাল থেকে একই অবস্থা বিরাজ করতে থাকে যত সময় গড়াতে থাকে আম্পানের প্রভাব ততই বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে আতঙ্ক।

নতুন করে ঘুর্ণিঝড়ের আশঙ্কা—ঝুঁকিপূর্ণ বেঁড়িবাধের শঙ্কা তো সব সময় কয়রা উপকূলবাসীর লেগেই ছিল এ নিয়ে উপজেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক-শঙ্কা বিরাজ করছিল । ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে বেড়িবাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে এখ দিশেহারা হয়ে পড়ছিল খুলনার কয়রার মানুষ। অপরদিকে কপোতাক্ষের জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়লে ঘর-বাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা নষ্ট হয়ে যাবে এমন আতঙ্কে ও দিশেহারা হয়ে পড়েছিল উপকুলের মানুষ।

এতে শঙ্কা নিয়ে দিন কাটছিল তীরবর্তী মানুষগুলোর। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানির পরিমাণ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল । স্থানীয়রা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময় বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে কোনোমতে রক্ষা করে আসছে অধিকাংশ বাঁধগুলো। এসব বাঁধের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছিল।যেকোন সময় কয়রা উপজেলার বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে প্লাবিত হতে পারে আশপাশের গ্রাম ও শত শত বিঘা জমির ফসল।

এমতাবস্থায় এমন শঙ্কায় আসন্ন মহাপ্রলয়নকারী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এর প্রভাব মোকাবেলায় কয়রা উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি, ব‍্যক্তি উদ্যোগে, বিভিন্ন সংগঠন, স্থানীয় সেচ্ছাসেবক, সি পি পি সদস্যরা যখন সচেতনতামূলক প্রচার -প্রচারনা, ঝড়ের সর্বশেষ অবস্থা, ত্রাণ বিতরণ ও আতঙ্কগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় ব‍্যস্ত।

তখনও সবার সাথে পায়ে পা মিলেয়ে কয়রায় গ্রাম আদালত সহকারী তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। কয়রা উপ‌জেলায় গ্রাম আদালত প্রক‌ল্পের মাধ‌্যমে গ্রাম আদালত সহকারীগন অক্লান্ত প‌রিশ্রম ক‌রে চ‌লে‌ছিল ।তাদের কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে আশ্রয়‌কেন্দ্র প‌রিস্কার প‌রিছন্ন,জীবানুনাষক স্প্রে,মাই‌কিং করা, পাতাকা উ‌ত্তোলন করা , অসহায়‌দের সা‌থে ক‌রে আশ্রয়‌কে‌ন্দ্রে নি‌য়ে যাওয়া,মাক্স বিতারন,মোমবা‌তি ও ম‌্যাচ বিতারন,শুক্ন খারাব বিতারন সহ সকল কা‌জে চেয়ারম‌্যানদের সা‌থে সমন্বয় ক‌রে চলেছিলেন।

এ বিষয় উপ‌জেলা সমন্বয়কারী মোঃ র‌বিউল ইসলাম ব‌লেন,”ঐ ভয়াল ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গ্রাম আদালত প্রক‌ল্পের মাধ‌্যমে আমরা সহ‌যো‌গিতা ক‌রেছি এবং আমা‌দের সকল গ্রাম আদালত সহকারীগন চেয়ারম‌্যা‌নের পরাম‌র্শে সারাক্ষন কাজ ক‌রেছে “।

এ ভয়াবহ মূহুর্তে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের গ্রাম আদালত সহকারীগণ তারা হলেন, গ্রাম আদালত সহকারী‌ উৎপল মন্ডল, গোলাম রব্বানী ,আক্তারুল ইসলাম, আলমগীর হো‌সেন, সুরাইয়া খাতুন, জয়ন্ত সরকার, তম্ময় কুমার।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সকল ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য,স্থানীয় নেতাকর্মী, সংবাদকর্মী সহ গন‍্যমান‍্য ব‍্যক্তিবর্গ।

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ