ঢাকা, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ফুঁসে উঠেছে তিস্তা, ৩ দিনেও মেলেনি ত্রাণ

প্রকাশিত: রবিবার, জুলাই ১২, ২০২০ ১০:৪০ অপরাহ্ণ  

| আজিজুল ইসলাম বারী ,লালমনিরহাট সংবাদ দাতা

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি রবিবার রাতে আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার ৫ উপজেলায় তিস্তা তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষজন আবারও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ফলে গত ৩ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে তিস্তা তীরবর্তী এলাকাগুলোর হাজার হাজার পরিবার। এখনো পর্যন্ত পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি-বেসরকারি কোনো ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়নি। এ নিয়ে তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। ওইদিন রাত ১২টায় তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় বিপদসীমার ৩৮ সে.মি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। এতে হাতীবান্ধা মেডিকেল মোড় থেকে গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় হয়ে বড়খাতা বিডিআর গেট বাইপাস সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে শুরু করে।

শনিবার সকালে সেই পানি কমে বিপদসীমার ১২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করলে ওইদিন রাতে আবার বেড়ে যায় পানির গতি।

রবিবার দুপুরের পর থেকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১০টার দিকে দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

কয়েক দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাপাড়ের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দির পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের মাঝে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়লেও গত ৩ দিনেও সরকারি বা বেসরকা রিভারে ত্রাণ বিতরণের কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।

পানিবন্দি লোকজনের অভিযোগ, কারোনার কারণে তারা বেশ কিছুদিন ধরে কর্মহীন হয়ে বাড়িতে বসে আছেন। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানিতে পানিবন্দি হয়ে পড়ায় তারা বিপাকে পড়েছে। অনেক পরিবার বসতবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও তাদের মাঝে এখন পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ‘এবারের বন্যা একটু স্থায়ী হতে পারে। ফলে কয়েক দিন তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘ইউএনও ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।’

বিনোদন, লাইফস্টাইল, তথ্যপ্রযুক্তি, ভ্রমণ, তারুণ্য, ক্যাম্পাস ও মতামত কলামে লিখতে পারেন আপনিও – Peoplesnews24.com@gmail.com ইমেইল করুন  

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয় সংবাদ