=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবা-মা-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে কেউ বেঁচে নেই, খোকন এখনও জানেন না সে খবর

| নিউজ রুম এডিটর ৬:৪৬ অপরাহ্ণ | ১৩/০১/২০২৩ সারাদেশ

অগ্নিদগ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শুয়ে আছেন খোকন বসাক (৪২)। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কিছুক্ষণ পর পর তিনি আগুনে দগ্ধ পরিবারের অন্যদের খোঁজ নিচ্ছেন, আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। পাশেই বসে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন বোন ঝর্ণা ও বোনের স্বামী হারাধন। খোকনকে জানানো হচ্ছে, আগুনে দগ্ধ পরিবারের অন্যান্যরা ভালো আছে।

পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক খোকনের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহাজন পাড়ায়। সেমিপাকা বাড়িটির পাশেই নির্মাণাধীন আরেকটি বাড়ি আছে। বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) অন্যান্য দিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে খোকনের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝরাতে হঠাৎ সন্তান ও মায়ের চিৎকারে ঘুম ভাঙে খোকনের। ঘুম ভেঙে দেখেন ঘরে আগুন জ্বলছে।

বের হওয়ার দরজার মুখেই ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ততক্ষণে সেটিতেও আগুন লেগে যায় ও দরজা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা ঢুকতে থাকে। খোকন এক দৌড়ে ঘর থেকে বের হতে পারলেও আগুনের কারণে আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এরপর আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের সবাই চেষ্টা করেও ঘর থেকে কাওকে বের করতে পারেনি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টা শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে সব শেষ।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাড়ির জানালা কেটে একে একে খোকনের বাবা কাঙ্গাল বসাক (৬৮), মা ললিতা বসাক (৫৭), স্ত্রী রাখি দে (৩৩), ছেলে সৌরভ বসাক (১২) ও মেয়ে শায়ন্তী বসাকের (৬) মরদেহ বের করা হয়।

পরে আগুনে দগ্ধ খোকনকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার কপাল ও পা সহ শরীরের বেশ কিছু জায়গা পুড়ে গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। এমতাবস্থায় তাকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মৃত্যুর খবর এখনও জানানো হয়নি।

খোকনের বোনের স্বামী হারাধন বলেন, ভেঙে পড়বেন এ আশঙ্কায় খোকনকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে সবকিছু জানানো হবে।

এদিকে খোকন বলেন, প্রথমে ঘুম ভাঙার পর আওয়াজ শুনে আমি মনে করেছি প্লেন যাচ্ছে। এর কয়েক মিনিট পর আবার আমার মা ও সন্তানরা আগুন আগুন বলে চিৎকার করে। আমি ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আমার বাড়িতেই আগুন। পরে দরজা খুলে আমি সবাইকে বের হয়ে যেতে ডাকি। কিন্তু তারা কেউ বের হতে পারেনি।

রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, মধ্যরাতে আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের মধ্যে খোকন ঘর থেকে বের হতে পারলেও বাকিরা ভেতরেই পুড়ে মারা যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিহতদের ঘরের জানালার গ্রিল কেটে বের করা হয়। রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।