• আজ ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
 নাহিদের তাণ্ডবে কুপোকাত পাকিস্তান, ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের | শপিংমল-দোকানপাট খোলা রাখা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির | আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী | গুম-খুনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে নতুন দেশ গড়ার প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর | মানুষের সঙ্গে মিশে যাবেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিবেন — জেলা প্রশাসকদের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী | স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী | তেল পাচার রোধ ও ঈদকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার | মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা | টেকনাফে গহীন পাহাড়ে মিলল ৩ জনের রক্তাক্ত মরদেহ | নাটকীয় ম্যাচে রিয়ালকে বিদায় করে সেমিতে বায়ার্ন |

কাজ বাকি রেখেই খুলল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের তিন ফ্লাইওভার

ঈদকে সামনে রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের তিনটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর অংশে নাওজোর এবং কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর ও টাঙ্গাইল অংশের গোড়াই ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়। তবে ফ্লাইওভারের কিছু কাজ বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর গাজীপুর অংশে দুটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এবং কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজারে ওই মহাসড়কে ওপর নির্মিত দুটি ফ্লাইওভার সোমবার সকালে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

গাজীপুর সড়ক বিভাগের দাবি ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত অনেকটা স্বস্তিদায়ক হবে।

দেশের উত্তর অঞ্চলের ২৩টি জেলার ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা। প্রতি ঈদে এসব সড়ক পথে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও চালকদের। যানজটে পড়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

যানজটের এ দুর্ভোগ কমাতে ২০১৯ সালে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় ও সফিপুরে দুটি ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়। এতে কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিনই যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হতো যাত্রীদের।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল আলম জানান, ঈদের আগে ফ্লাইওভার দুটি খুলে দেওয়ায় ঈদযাত্রায় স্বস্তিদায়ক হবে। মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, কাজ বাকি রেখেই টাঙ্গাইল অংশের গোড়াই ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়া হয়। এতে স্বস্তিতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন সাধারণ মানুষ। এর আগে এই স্থানে যানবাহনের চাপ বাড়লে যানজটের সৃষ্টি হতো।

ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ার সময় সাসেক-২ এর প্রকল্প পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ওয়ালিউর রহমান, সাসেক-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক নূর-এ-আলম, টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গোড়াই এলাকায় ফ্লাইওভার কাজ চলমান থাকায় সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ বাড়লে এখানে যানজটের সৃষ্টি হতে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের। ঈদকে কেন্দ্র করে সোমবার ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন মানুষ।

বগুড়াগামী ট্রাকচালক রুস্তম আলী বলেন, বগুড়া থেকে ঢাকা নিয়মিত ট্রাক চালাই। গোড়াই এলাকায় মাঝে মধ্যে যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়ায় আজকে কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। স্বস্তিতেই সেতুটি পার হতে পারছি।

বাসচালক আজগর মিয়া বলেন, ঢাকা থেকে পঞ্চগড় যেতে যতটা কষ্ট না হয়। তার চেয়ে গোড়াই এলাকায় যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আজকে ফ্লাইওভারটি খুলে দেওয়ায় ভালো লাগছে।

সাসেক-১ এর অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক নূর-এ-আলম বলেন, গোড়াই ফ্লাইওভারটি গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু। বিভিন্ন কারণে ফ্লাইওভারটি কাজ করতে একটু সময় লেগেছে। অল্প কিছু কাজ বাকি থাকলেও বর্তমানে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উপযোগী। ঈদকে সামনে রেখে রাত দিন কেটে সেতুটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ভোগান্তি থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ঈদের আগে খুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গসহ ২৩ জেলার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করবে। এতে চারলেন এলাকায় কোনো যানজট হবে না। অন্য বছরের তুলনায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও যানজট না হওয়ায় ভোগান্তি হবে না।