• আজ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান পদ হারালেন

| নিউজ রুম এডিটর ১:৫২ পূর্বাহ্ণ | ২৬/০৭/২০২৬ জাতীয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছে। আদালতের ৮২ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে প্রধান প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে করিম খানকে। এই ভোটাভুটিতে ১৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল এবং করিম খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মাত্র ১৩টি দেশ। করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তিনি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন। ভোটাভুটির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেননি।

গত সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তার আইনজীবীদের মতে, এই কারণে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সঠিক সুযোগ অথবা যথাযথ প্রক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ১৪০টি ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের একটি জোট ভোটের আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথানত করছে আন্তর্জাতিক আদালত।

করিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এমন সময়ে ওঠে যখন তিনি গাজায় যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্ত করছিলেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরয়ানা চান। ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলো এই তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ দিতে থাকে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র আদালতের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন করিম খান ও অন্যান্য কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং আদালতটিতে নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত চলাকালে সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সরাসরি ফোন করেছিলেন, এতে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অসদাচরণ প্রমাণিত না হলে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। করিম খানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার ফলে আন্তর্জাতিক আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।