
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিয়োগে মেধার মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় যুবশক্তির আয়োজনে ঘেরাও কর্মসূচি থেকে এই পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে জাতীয় যুবশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক রিফাত রশিদ বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য থেকে তাদের সন্দেহ হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্দেহ হয়, এবার হয়তো ভাগবাটোয়ারায় গণ্ডগোল লেগেছিল। এ জন্য কেউ না কেউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ করেছে। অন্যথায় ঘটনাটি সামনে আসত না।’
তিনি বলেন, ২৪২টি পদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এতে দেশের চাকরির বাজারের সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ না দিয়ে কোটা, ভাইভার নম্বর বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করার অভিযোগ করেন তিনি।
রিফাত রশিদ বলেন, ‘যুবসমাজের পেটে লাথি দিয়ে তাদের সঙ্গে খেলবেন না। যুবসমাজ আপনার ফুটবল নয় যে আপনি লাথি দেবেন আর তারা চুপ করে বসে থাকবে।’ যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি না খেলতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেল বলেন, বিএনপি দ্রুত আওয়ামী লীগের মতো হওয়ার চেষ্টা করছে। রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোকে দলীয়করণ এবং অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ফরহাদ সোহেল বলেন, ‘বাংলাদেশের যুবসমাজ বারবার বঞ্চিত হয়েছে, বারবার তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। বিএনপি আবার নতুন খেলায় লিপ্ত হয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে চাকরিপ্রত্যাশীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে এক কোটি চাঁদাবাজ তৈরির অভিযোগ করেন তিনি।
তারিকুল ইসলাম বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি থাকলেও সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো সচল করার কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তার অভিযোগ, চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে তরুণদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের তথ্য পরীক্ষার আগের রাতেই সামনে এলেও পরীক্ষা শুরুর আগে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। এতে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পরিবর্তে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণদের ন্যায্য হিস্যা কোনো রাজনৈতিক দল আদায় করে দেয়নি; আমরা রাজপথে নেমে সবসময় আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি।’
ঘেরাও কর্মসূচি থেকে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো:
১. যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ।
২. প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
৪. পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা।
৫. বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ।























