• আজ

বোমা হামলার হুমকিতে জরুরি অবতরণ ইসরায়েল থেকে আসা বিমানের

বোমা হামলার হুমকিতে জরুরি অবতরণ ইসরায়েল থেকে আসা বিমানের

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। বিমানটিতে ছয়জন ক্রু সদস্য ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য সবাইকে বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, রবিবার (১৮ অক্টোবর) বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোমানিয়া সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। এরপর বিমানটি সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দাবানলে পুড়ল ৫৭০ একর এলাকা, সরানো হলো হাজারো মানুষ

বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান এসকর্ট করে বিমানটিকে সোফিয়া বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। বিমানটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। তল্লাশি শেষে যাত্রীদের দ্রুত অন্য ফ্লাইটে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি মোকাবিলায় একটি সংকট মোকাবিলা দল গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। পরে গতিপথ পরিবর্তন করে দক্ষিণ দিকে ঘুরে বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে আসে। এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় বিমানটি ‘স্কোয়াক কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যা সাধারণত জরুরি পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

এর আগে গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের বিরুদ্ধে পাইলটকে কুঠার দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। ধারণা করা হয়, তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট বা ৫ হাজার ১৮০ মিটার নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে যাত্রী ও অন্য ক্রু সদস্যরা অভিযুক্ত কো-পাইলটকে কাবু করেন। এরপর অন্য পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেন। পরে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কো-পাইলট একটি ‘আত্মঘাতী’ মিশন পরিচালনা করছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট হামাম আল-হামমামির বিরুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ইসরায়েলি সরকার দেশটিতে প্রবেশকারী সব পাইলটের পরিচয় যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে।