
বিকেলে একই বাসে উঠেছিলেন বাবা মা। তাদের সঙ্গে ছিলেন পাঁচ বছরের মেয়ে আর ছেলে। ভোরে সেই বাসেই ভেঙে গেল তাঁদের পরিবার।
বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম ও তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। গুরুতর আহত শহীদুলের স্ত্রী রুবিনা বেগম ও ছেলে মো. লাবিব এখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নাটোরের বড়াইগ্রামে ভোর সাড়ে চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আরপি নাইস পরিবহনের বাসটি সোমবার বিকেল চারটার দিকে বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছাড়ে। বাস কাউন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা থেকে উঠেছিলেন ১০ জন যাত্রী।
রুবিনা বেগম ও দুই সন্তান উঠেছিলেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের সুবিদখালী থেকে। আর শহীদুল ইসলাম ওঠেন পথে, মাগুরা থেকে।
শহীদুলের ফুফাতো ভাই সুজন হাওলাদার জানান, বাবা ও মেয়ের মরদেহ সুবিদখালীর গ্রামের বাড়িতে আনা হচ্ছে। অপেক্ষায় আছেন স্বজনেরা। কিন্তু যাঁদের জন্য এই অপেক্ষা, তাঁরা ফিরছেন নিথর হয়ে।
রুবিনা বেগম পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পাঁচ বছরের তাছফিয়া স্থানীয় একটি নুরানি মাদ্রাসায় পড়ত। লাবিব সুবিদখালী আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
দুর্ঘটনায় আহত অন্য যাত্রীদের মধ্যে আছেন বরগুনার কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপক এ কে এম ফজলুল হক ও গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা জুলফিকার। তাঁরাও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
একদিকে হাসপাতালের শয্যায় মা ও ছেলে। অন্যদিকে সুবিদখালীর বাড়িতে বাবা ও মেয়ের মরদেহ গ্রহণের প্রস্তুতি। চারজনের যে যাত্রা একসঙ্গে শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো দুজনের মৃত্যুতে।
বেঁচে থাকা মা ও ছেলেকে এখন ফিরতে হবে এমন এক সংসারে, যেখানে আর কখনো থাকবেন না শহীদুল ও ছোট্ট তাছফিয়া।























