=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতু কারো দানে নয়, দাম দিয়ে কেনা

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দিকে তাকালে আব্দুল লতিফের লেখা কয়েকটা গানের কলি মাথার ভেতরে গুনগুন করে- আমি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা/কারোর দানে পাওয়া নয়। প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত হওয়া এ পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে আছে এ দেশের মানুষের সাহসের প্রতীক হয়ে। মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল বিশ্বব্যাংক, অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল পদ্মা সেতু। কিন্তু থেমে থাকেনি কর্মযজ্ঞ। এ দেশের মানুষের শ্রমের টাকায় নির্মিত হয়েছে বহুমুখী এ সেতু, হাত পাততে হয়নি কারো কাছে। নির্মিত সেতুর প্রতিটি বালুকণায় লেগে আছে বাঙালির কষ্টার্জিত অর্থ। এ কেবল নিছক এক সেতু নয়, মাথা না নোয়াবার এক মূর্তিমান প্রতীক পদ্মা সেতু।

প্রমত্তা পদ্মার বুকে জেগে উঠেছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের স্বপ্নের সেতু। আগামীকাল শনিবার (২৫ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন। পদ্মা সেতু নিয়ে উত্তেজনা ও উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণ মোটেও চাট্টিখানি ব্যাপার ছিল না, বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাংক সাফ জানিয়ে দেয় তারা পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে না। কিন্তু থেমে থাকেনি বাংলাদেশ, মুখ থুবড়ে পড়েনি স্বপ্নের প্রকল্প। নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি হয়েছে পদ্মা সেতু, তাক লাগিয়ে দিয়েছে সমগ্র বিশ্বকে।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই অনবদ্য লাইন- সাবাশ বাংলাদেশ/এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়। হলফ করে শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলা যায়, পদ্মা সেতুই এ কবিতার কাঠামোগত দৃশ্যমান রূপ। পদ্মা সেতু নির্মাণের পেছনের কণ্টকাকীর্ণ পথের দিকে তাকালে কথাটিকে মোটেও সহজ বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ঋণ দিয়ে থাকে বিশ্বব্যাংক। সেই ভরসায় বিশ্বব্যাংকের কাছে যখন পদ্মা সেতুর জন্য ঋণের আবেদন করা হয়- বিশ্বব্যাংক জুড়ে দেয় কিছু অন্যায় শর্ত, অর্থ প্রদানের আগেই আনে দুর্নীতির অভিযোগ।

গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়া

পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের আশ্বাস দেয় বিশ্বব্যাংক, হয় ঋণচুক্তিও। কিন্তু অর্থ প্রদানের আগেই দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিশ্বব্যাংক। ঋণচুক্তির ৫ মাসের মাথায় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে অর্থায়ন স্থগিত করে সংস্থাটি। এতে করে অথৈ সাগরে পড়ে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গ্রেফতার করা হয় সেতু সচিবসহ দুজনকে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের কাছে মনে হয়, এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ২০১২ সালের ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।

সমগ্র ব্যাপারটিই যে একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র তা স্পষ্ট হয় কানাডার আদালতে। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও কানাডার আদালতে তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের এ আচরণ গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়ার শামিল।

কেন এমন আচরণ

বিশ্বব্যাংকের এমন আচরণের পেছনে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সামনে উঠে এসেছে। একটি হচ্ছে দেশীয় ষড়যন্ত্র, অন্যটি বিশ্বব্যাংকের স্বেচ্ছাচারিতায় বাধাপ্রদান। পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংক যে কোম্পানিকে নিযুক্ত করতে চেয়েছিল, বাংলাদেশ তাতে রাজি হয়নি। সংগত বেশ কিছু কারণে বাংলাদেশের মনে হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ করা কোম্পানির পদ্মা সেতু নির্মাণে সক্ষমতা নেই।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে পরিষ্কার জবাব দিয়েছেন পানি সম্পদ ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক যে বিরোধিতা করেছে, তার পেছনে রাজনৈতিক কারণ ছিল। যমুনা সেতু যারা করেছে, আমরা তাদের প্রি-কোয়ালিফাই করিনি। কারণ পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো সক্ষমতা তাদের ছিল না। পদ্মা সেতুর কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হয়নি। পদ্মার মতো নদীতে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে। কত জোরে আঘাত হানতে পারে, সেগুলো মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা তৈরি করেই আমরা সেতু নির্মাণ করেছি। পদ্মা সেতু আমরা যখন তৈরি করি, তখন মাছের কথা চিন্তা করেছি। মাছ যাতে ভয় না পায়, এ জন্য আমরা শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামারগুলোর একটি ব্যবহার করেছি। কিন্তু তারপরও আমরা শব্দ নিয়ন্ত্রণ করেছি।

ঘরের শত্রু বিভীষণ

যারা মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ মহাকাব্যটি পড়েছেন, তাদের অবশ্যই মনে আছে মেঘনাদের সেই করুণ মুখ। নিকুম্ভীলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদ যখন যজ্ঞে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সেখানে মেঘনাদকে আঘাত করতে উপস্থিত হন লক্ষ্মণ। লক্ষ্মণ কী করে নিকুম্ভীলায় আসলেন, তা পরিষ্কার হয়ে গেল একই যজ্ঞাগারে নিজ চাচা বিভীষণকে দেখে। মেঘনাদ লক্ষ্মণের কাপুরুষোচিত আচরণে যতটা না কষ্ট পেয়েছিলেন, তার থেকেও বহুগুণ কষ্ট পেয়েছিলেন নিজ চাচা বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায়।

বাংলাদেশের পদ্মা সেতু তৈরির পেছনের গল্পটাও অনেকটা এমন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে বাংলাদেশ যতটা না আঘাত পেয়েছে, তার থেকেও বেশি আহত পেয়েছে দেশের বেশকিছু সুশীল মানুষের কর্মকাণ্ড দেখে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বাতিল ও দুর্নীতি প্রমাণে উঠেপড়ে লেগেছিলেন সুশীল সমাজের কেউ কেউ। তারা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকও করেন। যদিও ঋণ বাতিলে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন ড. ইউনূস। দুদকের সে সময়কার কমিশনার জানান, ইউনূসের সঙ্গে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিল বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, দুদকের সঙ্গে বৈঠকের আগের দিন রাজধানীর অভিজাত এক হোটেলে কয়েকজন সুশীলের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল। জানা যায়, ওই বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, মতিউর রহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের মতো ব্যক্তিরা ছিলেন। সে সময় দুদকের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ধারণা, ওই বৈঠকে পদ্মা সেতু নিয়ে নেতিবাচক ধারণা দেয়া হয় বিশ্বব্যাংককে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সৌজন্যে সে সময় ডিনারের আয়োজন করে দুদক। সেখানে উঠে আসে ড. ইউনূস প্রসঙ্গ। প্রতিনিধিদলের এক সদস্যের পরামর্শ ছিল, ড. ইউনূসের সঙ্গে সব সমস্যা মিটিয়ে ফেলা। এতে ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে বিশ্বব্যাংক-এমনটাই জানান সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিলে ড. ইউনূস মুখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে জানান দুদকের সাবেক ওই কমিশনার। এর সঙ্গে যোগ দেন কয়েকজন সুশীল।

স্বপ্নের সিঁড়িতে বাংলাদেশ
পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। মূল প্রকল্পের পরিকল্পনা করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্প পাস করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার এসে সেতুতে রেলপথ সংযুক্ত করে। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। পরবর্তীতে পদ্মা সেতুর ব্যয় আরও ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়। তখন পদ্মা সেতুর ব্যয় দাঁড়িয়েছিল সব মিলিয়ে ২৮ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে এর ব্যয় আরও ১৪০০ কোটি টাকা বাড়ে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান বসে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ স্প্যানটি বসে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, প্রস্থ ৭২ ফুট, ভায়াডাক্ট ৩ দশমিক ১৮ কিলোমিটার, মোট স্প্যান সংখ্যা ৪১টি, মোট পাইলিং সংখ্যা ২৮৬টি ও মূল সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে ৪১৫টি।

স্বভাবসুলভ আতিথেয়তা

পুরনো সবকিছু ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের গাছে তুলে মই কেড়ে নেয়া স্বভাব হয়তো আজীবনের জন্য মনে রাখবে বাংলাদেশ, কিন্তু এতে করে বদলাবে না বাংলাদেশের সেই চিরচেনা আতিথেয়তার স্বভাব।

সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রটি বুধবার ড. ইউনূসের পক্ষে গ্রহণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকসহ সাড়ে তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিএনপি নেতারা দাওয়াত পেয়েছেন। বুধবার সেতু বিভাগের উপসচিব দুলাল চন্দ্র সূত্রধর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন।

যেখানে বিএনপির সাত শীর্ষ সারির নেতার নাম থাকলেও ছিল না খালেদা জিয়ার নাম। আমন্ত্রণ পাওয়া বিএনপির সাত নেতা হলেন: দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হব

অনেকেই ভেবেছিলেন বিশ্বব্যাংকের অর্থ না পেয়ে, নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ এক ধরনের অদূরদর্শিতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। পদ্মা সেতু নির্মাণে দেশে জিডিপির পরিমাণ বাড়বে দেড় থেকে দুই শতাংশ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জিডিপি বাড়বে আড়াই শতাংশ। সেতু চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে যে ইতিবাচক গতি তৈরি হবে, প্রথম বছরে তার আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ। এতে করে প্রথম বছরেই পদ্মা সেতু থেকে আয় হবে ৩৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে বেশি।

সরকারের সম্ভাব্যতা জরিপে বলা হয়, সেতুটি নির্মিত হলে দেশের জিডিপি ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। এতে ওই অঞ্চলের মানুষের আয় বাড়বে এক দশমিক চার শতাংশ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ৭ লাখ ৪৩ হাজার।

জাইকার সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে, জিডিপি বাড়বে ১ দশমিক ২ শতাংশ। এতে আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন ২১ হাজার ৩০০ যানবাহন চলাচল করবে, ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে হবে ৪১ হাজার ৬০০।

আর বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষায় বলা হয়, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে ১ শতাংশ হারে। এতে করে বাংলাদেশ পরিশোধ করতে হচ্ছে না কোনো বাড়তি ঋণের অর্থ। দিন শেষে একটি সাহসী পদক্ষেপে ঘরের টাকাই দ্বিগুণ হয়ে ফিরে আসছে ঘরে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মনে এখন এক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আগামী শনিবার (২৫ জুন) উদ্বোধন হচ্ছে পদ্মা সেতু, ঘুচে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের দূরত্ব। এ সেতু কেবল একটি অবকাঠামো নয়- এটি বাংলাদেশের সাহসিকতার স্থাপনা, মাথা না নোয়াবার প্রতীক ও স্বপ্ন দেখার সাহস। বরাবরের মতো এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ আবারও প্রামণ করল- বাঙালিরা পারে।