=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়: শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে শচীন

| পিপলস ডিজিটাল ডেস্ক ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | ২৪/০৭/২০২৬ আন্তর্জাতিক

ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় চলমান আন্দোলনের মধ্যে মুখ খুলেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। তিনি বলেছেন, তরুণদের যেন কখনো কঠোর পরিশ্রম ও মেধার ওপর বিশ্বাস হারাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শচীন তার প্রয়াত বাবা অধ্যাপক রমেশ টেন্ডুলকারের শেখানো মূল্যবোধের কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী মনে করছেন তাদের কঠোর পরিশ্রম মূল্যায়িত হয়নি, তাদের হতাশার প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

শচীন লেখেন, ‘আমার বাবা ছিলেন একজন অধ্যাপক। তিনি অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। ছোটবেলায় তিনি আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনো শর্টকাটের পথ বেছে নেবে না।’নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই এই মন্তব্য করেছেন গড অব ক্রিকেট খ্যাত শচীন টেন্ডুলকার।তবে প্রশ্নফাঁসের তদন্ত বা আন্দোলন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি শচীন। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষা করা এবং শর্টকাটের বদলে সততা ও মেধাকে মূল্যায়ন করা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

পোস্টে শচীন বলেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে সমাজ পরিশ্রমের চেয়ে শুধু ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেখানে মেধার বদলে শর্টকাটের প্রবণতা তৈরি হয়।’

তিনি লেখেন, ‘আজ যখন শিক্ষার্থীরা মনে করছে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্যায়ন হয়নি, তখন তাদের হতাশা স্বাভাবিক। আমাদের সবার উচিত একসঙ্গে কাজ করা, যাতে ভবিষ্যতে তাদের আর এমন অনুভূতির মুখোমুখি হতে না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের তরুণরা স্বপ্ন ও উদ্যমে ভরপুর। তারাই আমাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের শক্তি। অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়, বিদ্যালয়, প্রশাসন সমাজের সবারই দায়িত্ব রয়েছে, যাতে তরুণরা উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে না ফেলে।’

সবশেষে শচীন বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের মূল্যায়ন হবে, সততাকে উৎসাহ দেওয়া হবে এবং মেধাই জয়ী হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই মিলে এমন সমাধান বের করতে পারব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্নকে সুরক্ষিত রাখবে।’

শিক্ষার্থীদের পাশে আরও ক্রিকেটার

ভারত জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সংলাপ ও ধৈর্যের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব।

অন্যদিকে সাবেক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ কাইফ দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ভিডিও দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি লেখেন, ‘একজন বাবা হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটির প্রতিবাদ করায় পুলিশের হাতে শিক্ষার্থীদের মার খেতে দেখে কষ্ট লাগে। দিল্লির রাস্তায় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা বন্ধ হওয়া উচিত। আশা করি খুব দ্রুত একটি সমাধান হবে।’

সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানও শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের ত্যাগ যেন কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ম্লান না হয়ে যায়। তিনি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বর্তমানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে চলা আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।