• আজ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলা কাল হল

| নিউজ রুম এডিটর ২:০১ অপরাহ্ণ | ২৬/০৭/২০২৬ জাতীয় রাজনীতি

অসুস্থতার অজুহাত দিলেও বাস্তবে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার জন্য সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজ বিপদে পড়েছেন। তিনি শুধু লন্ডনে গিয়ে নয়, দেশে অবস্থানকালেও একাধিকবার শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত একাধিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে উপস্থিত রয়েছে। তবে মো. সাহাবুদ্দিন দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের খবরটি ভিত্তিহীন। তিনি বলেছেন, যদি কেউ এই ফোনালাপের পক্ষে প্রমাণ দিতে পারে, তবে তিনি জনগণের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। তিনি এটিকে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সম্প্রতি ভারতে থাকা শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসার ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে ও বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্তের তথ্য সরকারের কাছে এসেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক নড়াচড়া ও গতিবিধির বিষয়েও সরকার সতর্কতা অবলম্বন করেছে। পরিস্থিতি বিচার করে সাহাবুদ্দিনকে আর ছাড় দেওয়া হবে না, বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণে সাহাবুদ্দিনের ওপর বিশ্বাস অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাখতে চায়নি। তবে বিএনপি ভিন্ন কারণে সাহাবুদ্দিনের বিপক্ষে যায়নি। নির্বাচন শেষে তাঁকে আসনে রাখা হয়। অনেকের মতে, বিএনপি সাহাবুদ্দিনকে যে সম্মান দিয়েছিল, সেই সম্মান তিনি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসার পর সরকার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদেশে অবস্থানরত স্পিকারকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকালে তাঁর সামরিক সচিব পদত্যাগপত্র নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে যান এবং সেখানে স্পিকার তা গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং সেখানে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ করার অভিযোগ ওঠে। দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি তদন্তে নেমে পড়ে। শেখ হাসিনার সম্ভবনা ফিরে আসার খবরেও সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।