=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২৬শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াসকে তিন দিন ও রিমিকে দুই দিনের রিমান্ড

‘যাদের কোনো পরিচয় নেই, তারাই জুলাইযোদ্ধা কথাটাকে বেশি ব্যবহার করে’—পিপি

| নিউজ রুম এডিটর ১০:১১ অপরাহ্ণ | ১১/১০/২০২৬ সারাদেশ

শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াসকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া বাকি তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

 

 

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

 

রিমান্ড শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ রিমান্ড শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দেন। এর জবাবে আমরা বলেছি, জুলাইযোদ্ধা বাংলাদেশে সবাই। আমরাও জুলাই আন্দোলন ও সংগ্রামে ছিলাম।

 

আমরাও আহত হয়েছি। আমরাও জুলাইযোদ্ধা। কিন্তু আমাদের পরিচয় ছিল বিধায় জুলাইযোদ্ধা বলতে হয় না। মূলত যাদের কোনো পরিচয় নেই, তারাই জুলাই যোদ্ধা কথাটাকে বেশি ব্যবহার করে।’

 

পিপি বলেন, ‘কেউ জুলাইযোদ্ধা হোক বা মুক্তিযোদ্ধা হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে না। কেউ যদি দেশের সম্প্রীতি, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যে-ই কাজ করুক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

 

আসামির মারজিয়া খন্দকার রিমিকে দুই দিনের রিমান্ডের পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আসামি সাকিবুল হাসানকে (১৯) তিন দিন ও আসামি সুজন মিয়াকে দুই দিনের (১৮) রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

 

রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে মানুষ রাস্তাঘাটে হাটতে পারে না এ জন্য ফুটপাত উচ্ছেদ করে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গ্রাফিতি দেওয়া হয়েছে।

 

তারই অংশ হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। এ আসামিরা সেগুলো মুছে দিয়ে মূলত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। আসামি আয়াশ বিভিন্ন সময়ে নানা বক্তব্য দিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। মানুষকে গালাগালি করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে পরিবেশ নষ্ট করার কাজে লিপ্ত।’

 

পিপি আরও বলেন, ‘সামনে দুর্গাপূজা। আমরা এ দেশে হিন্দু মুসলিম বসবাস করি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে মূলত পূজার আগে উসকানি দেওয়া হলো।’

 

পিপি বলেন, ‘ভাইরাল হওয়ার জন্য রাস্তাঘাটে গালাগালি করতে হবে? সরকার এবং জনগণের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক কথা বলছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে তারা চ্যালেঞ্জ করেছে এ ঘটনার মাধ্যমে। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা এ ঘটনার সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে কারা আছে সেটা জানা দরকার। কারণ এসব করতে টাকা-পয়সা খরচ হয়। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের দশ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।’

 

অপরদিকে আয়াসে আইনজীবী মনির হোসেন সুমনসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, সব আসামি জুলাইযোদ্ধা। এ ছাড়া নারী আসামি রিমির তিন বছরের বাচ্চা আছে উল্লেখ করে রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিনের আবেদন করেন। পরে বিচারক দুগ্ধপোষ্য শিশু কি না জিজ্ঞেস করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

 

গতকাল শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাঁধার মুখে পড়েন একদল তরুণ। এর জেরে উভয় পক্ষের বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 

ঘটনাস্থলে এক নারী রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়, তখন এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। এ সময় ওই নারী বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশি বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেয়।

 

গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও কাজী নজরুল ইসলামসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের গ্রাফিতি আঁকা হয়।

 

শুক্রবার ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ছবি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সত্যজিৎ রায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শনিবার ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর আয়াসের নেতৃত্বে সেসব গ্রাফিতি মুছতে যায় একদল লোক।