=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.
  • আজ ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর লাশ রেখে নামাজ পড়তে গিয়ে মসজিদেই স্বামীর মৃত্যু

| নিউজ রুম এডিটর ৪:২৮ অপরাহ্ণ | ১২/১০/২০২৬ সারাদেশ

ঘরে পড়ে রয়েছে চিরবিদায় নেওয়া স্ত্রীর নিথর দেহ। সেই শোক বুকে চেপে পাশের মসজিদে গিয়ে ফজরের আজান দিলেন এবং নামাজ আদায় করলেন স্বামী রোমান মোল্যা (৬০)। কিন্তু নামাজ শেষ হতেই মসজিদে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তিনিও। মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে এই দম্পতির মৃত্যুর হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের মালিডাঙ্গা গ্রামে।

 

রোববার (১১ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কুয়েতপ্রবাসী ছেলে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকায় তাদের মরদেহ এখনো দাফন করা হয়নি।

 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রোমান মোল্যার স্ত্রী গত সাত বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিলেন। মাঝে কিছুদিন কিছুটা ভালো থাকলেও অধিকাংশ সময়ই তিনি শয্যাশায়ী থাকতেন। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি।

 

রোমান মোল্যা স্থানীয় মালিডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের নিয়মিত মোয়াজ্জিন ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর শোকের মধ্যেই তিনি ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে যথারীতি আজান দেন এবং জামাতে নামাজ আদায় করেন। তবে নামাজ শেষ হতেই তিনি হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করার চেষ্টা চালান, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

 

সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর এমন প্রয়াণে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পুরো গ্রামজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক নাড়া দিয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার জানান, এই দম্পতির ছেলে জসিম জীবিকার তাগিদে কুয়েতে থাকেন। বাবা ও মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি শেষবারের মতো দেখতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার ছেলে বাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের দাফন সম্পন্ন করা হবে।