
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ও ঘোষিত ‘গরু ভোজ’ কর্মসূচি উপলক্ষে একটি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের গরু ও একটি ছাগল নিয়ে আনন্দ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় গরু ভোজের অধিকারের দাবিতে নানা স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘লাল গরু না কালা গরু, লাল গরু লাল গরু’, ‘লালডা না কালাডা, লালডা লালডা’, ‘তোমার আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ এবং ‘গরু খাওয়ার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
এর আগে পূর্বঘোষিত গরু ভোজ কর্মসূচির জন্য পশু কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা।
মাসুদ রানা বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ গরু খাওয়া আটকানোর দুঃসাহস না দেখাতে পারে, সেই বার্তা দিতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। এছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কথা বিবেচনায় রেখে গরুর পাশাপাশি একটি ছাগলও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা উঠে এসেছে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। সংগৃহীত এসব অর্থ দিয়েই পশু কেনা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে খাবার বিতরণ করা হবে। সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। রান্নার পরিধি ও খাবার বিতরণের পদ্ধতি পরবর্তীতে জানিয়ে দেওয়া হবে।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস থেকে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্দেশ অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জকসুর উদ্যোগে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি নিশ্চিতের দাবি জানান জকসু নেতারা। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং অংশগ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়।























