• আজ

ইরানের সাথে শান্তি চুক্তি কঠিন, ধর্মীয় নেতাদের দায়ী করলেন রুবিও

ইরানের সাথে শান্তি চুক্তি কঠিন, ধর্মীয় নেতাদের দায়ী করলেন রুবিও

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার কট্টরপন্থি শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তেহরানের সাথে সমঝোতা কিংবা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার মতে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অবস্থান ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন রুবিও। তিনি বলেন, “ইরানি শাসকদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন… দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নয় এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তারা ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হয়। তাদের সাথে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।”

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।

দিল্লিতে মোদির বাসভবনের কাছে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ

সংঘাতের প্রথম দিনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের এই অবরোধ ও পাল্টা অবরোধের প্রভাবে গত আট মাস ধরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দফায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত জুনে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি’ নামে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিও সই করে দুই পক্ষ। তবে এসব উদ্যোগের কোনোটিই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারেনি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার সমালোচনা করে আসছেন রুবিও। এসব হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন তিনি। একই সাথে ইরানের কৌশলের সাথে নাৎসি বাহিনীর সাবমেরিন ব্যবহারের তুলনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রুবিও বলেন, “আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি। এটা রীতিমতো নজিরবিহীন।”

তিনি আরও বলেন, “তারা এমন কৌশল ব্যবহার করছে যা নাৎসি সাবমেরিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন একটি বিষয়, যার নিন্দা জানাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

এদিকে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফর করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সফরে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র বাঘের ঘালিবাফের সাথে বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকে ঘালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্তের মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা শুরু করবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।