
নির্ধারিত প্রটোকলের বাইরে গিয়ে হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে পথে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়, কুশল জিজ্ঞাসা ও খোঁজখবর নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে দেখা এবং সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকালে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক এ উপস্থিতিতে সেখানে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কুমিল্লায় ৪০ দিন জামায়াতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেল ২২ শিশু
এর আগে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। এ সময় বন্দরের কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন তিনি। দ্রুত পণ্য খালাস, বন্দর পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা আরও জোরদার করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
বন্দর পরিদর্শন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার পর প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অপেক্ষমাণ দেখে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাদের সাথে হাত মেলান, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতি ও আন্তরিক আচরণে উপস্থিত মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
পরে বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে মোংলা ত্যাগ করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবন পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আকাশপথে সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্ট, হিরণ পয়েন্ট ও ত্রিকোণ আইল্যান্ড-সংলগ্ন এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান। এরপর সরাসরি যান মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায়।
বন্দরের প্রধান ফটকে পৌঁছালে সেখানে জড়ো হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তার সাথে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মোংলা বন্দর এলাকায় বিপুলসংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মী জড়ো হন। মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো. জুলফিকার আলী এবং মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির মোংলা পৌর শাখার সভাপতি মো. জুলফিকার আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে মোংলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এ সফরের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বেজার প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাও এখন উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে।























