• আজ

এখন ইনশাআল্লাহকে ‘আলহামদুলিল্লাহতে’ পরিণত করতে পারি: এল-সায়েদ

এখন ইনশাআল্লাহকে ‘আলহামদুলিল্লাহতে’ পরিণত করতে পারি: এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচনী ফলাফলের এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা।

বিজয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে আবদুল এল-সায়েদ বলেন, ‘এত দিন এই নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় আমি সব সময় ইনশাআল্লাহ বলতাম। কিন্তু আজ রাতে আমরা সেই ইনশাআল্লাহকে আলহামদুলিল্লাহতে পরিণত করতে পারি।’

এরপর ডানপন্থীদের উদ্দেশে রসিকতা করে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ অর্থ ‘সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রশংসা’।

নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়েই ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজের অবস্থানের কারণে আলোচনায় ছিলেন এল-সায়েদ। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে তিনি দেশটিকে গণহত্যার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তবে ইসরাইল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সও এল-সায়েদের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন।

বিজয়ী ভাষণেও ইসরাইল প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ বর্ণবাদী ব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হোক।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও সমালোচনা করেন এল-সায়েদ। অতীতে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে তার নাম ভুল উচ্চারণ করে ‘মোহাম্মদ’ বলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদ বলেন, ‘ডোনাল্ড, আমি জানি আমার নাম উচ্চারণ করতে আপনার সমস্যা হয়েছে। তবে আগামী জানুয়ারিতে জেডি আমাকে শপথ পড়ানোর পর আপনি আমাকে শুধু সিনেটর বলে ডাকতে পারেন।’

সিনেট নির্বাচনে এল-সায়েদের এই জয়কে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে দায়িত্ব নেবেন তিনি।

এর আগে সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন এল-সায়েদ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানালেও বাস্তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাকারী পক্ষগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন নিজের ঘোষিত নীতির বিপরীত অবস্থান নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিশিগানের এই নির্বাচনে এল-সায়েদের জয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি, বিশেষ করে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসতে পারে।

,