
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনার আগের দিন ২৭ অক্টোবর তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ছিলেন মামলার সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯)।
তাদের একসঙ্গে খাবারের দোকান, বার ও মোটরসাইকেল গ্যারেজে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্টে জেরিকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের তথ্য মিলেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিনের আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ ও জেরিকা উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রুআপ কমপ্লেক্সে অবস্থিত সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় একাধিকবার সেখানে নাশতা করার তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পরে তারা একসঙ্গে একটি মোটরসাইকেল করে গ্যারেজে যান। একই রাতে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টেও একসঙ্গে অবস্থান করেন তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন জেরিকা।
জানা গেছে, তদন্তে তাহসিফ ও জেরিকার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন কিংবা তার আগে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস কিংবা নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানের সময় তাদের মধ্যে কোনো কথা-কাটাকাটি বা বাক্বিতণ্ডা হয়েছিল কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে এ মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) বক্তব্যের সঙ্গে জেরিকার দেওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। দুই আসামির বক্তব্যের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য ও আলামত উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর আগের দিনের চলাফেরা, জেরিকার সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং তাদের সম্পর্কের তৎকালীন পরিস্থিতি এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার রিমান্ডে নিয়ে আগের তথ্য, নতুন তথ্য এবং প্রযুক্তিগত তথ্যগুলো মিলিয়ে ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনে করেন।
শনিবার ৩১ অক্টোবর রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১ নভেম্বর আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় দীপের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আজ পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিশাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাত ১টা ৫ মিনিটে মামলা করেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।























