
রাতভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব, অথচ সকাল হলেই যেন উধাও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! ৮০ বছর বয়সে পা দেওয়া এই প্রেসিডেন্টের দৈনন্দিন কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে এমনই চিত্র তুলে ধরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসের পুরো সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে দেখা গেছে ট্রাম্পকে মাত্র তিন দিন। দিনের প্রথম ভাগের অধিকাংশ সময় তার সরকারি কর্মসূচিতে লেখা থাকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’। কিন্তু এই সময় আসলে কী করেন তিনি? রাত জাগা, ভোরে ঘুমানো, নাকি দিনের কর্মব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে থাকা—এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাতজাগার অভ্যাস নতুন নয়। গভীর রাত পর্যন্ত নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট ও অন্যের পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। অথচ সকালে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি থাকে খুবই কম। ডেইলি বিস্টের গত তিন মাসের কর্মসূচি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন চিত্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসের পুরো সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে ট্রাম্পকে জনসমক্ষে দেখা গেছে মাত্র তিনবার। যদিও সকাল ১১টা থেকে দুপুরের প্রথম ভাগে কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি, তবে তার অধিকাংশ প্রকাশ্য কর্মসূচি ছিল বিকেলের দিকে। দেশের বাইরে সফরের তিন দিন ছাড়া জুন মাসে সকালে তাকে প্রায় দেখাই যায়নি।
প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মসূচি এবং হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডেইলি বিস্ট জানিয়েছে, জুনের ৩০ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টা থেকেই ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ ছিল। এ সময়ের বাইরে জনসমক্ষে নীতিনির্ধারণী বৈঠক বা অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি ছিল দিনের পরের ভাগে, কখনো বা একেবারেই ছিল না।
মে মাসেও একই চিত্র দেখা গেছে। ওই মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টায় ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ রাখা হয়েছিল। এপ্রিলে মাসের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকেই তার কর্মসূচিতে এই সময় উল্লেখ ছিল।
দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এবং অন্যের পোস্ট শেয়ার করার অভ্যাস বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। আবার বিকেলের বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওভাল অফিস, গোলটেবিল বৈঠক এমনকি হোয়াইট হাউসের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তার চোখ বুজে আসার ঘটনা ঘটেছে।
‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ কি ঘুমানোর সময়?
ট্রাম্পের রাতজাগার অদ্ভুত অভ্যাস এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে হোয়াইট হাউসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা বই ‘রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি অব ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এ।
বইটিতে লেখকরা লিখেছেন, কখনো কখনো সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না তার সহযোগীরা। পরে তারা বুঝতে পারেন, আগের রাতে ফোনে কথা বলা কিংবা টেলিভিশন দেখতে দেখতে তিনি প্রায় সারারাত জেগে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোর ৪টা বা ৫টার দিকে ঘুমাতে যেতেন।
বইয়ে এমন একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একদিন বেলা গড়িয়ে গেলেও ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো খবর পাচ্ছিলেন না তার সহযোগীরা। তার সঙ্গে যোগাযোগের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত একজন সহযোগী প্রেসিডেন্টের খোঁজ নিতে তার আবাসিক কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ট্রাম্প তখনো ঘুমাচ্ছেন।
বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প রাতজাগা মানুষ হিসেবে পরিচিত। হোয়াইট হাউসে থাকা অবস্থায় তিনি ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আলাদা শয়নকক্ষে ঘুমান।
জুনে সকালে মাত্র তিনবার জনসমক্ষে
ডেইলি বিস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জুন মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল ১১টার আগে ট্রাম্পকে দেখার একমাত্র তিনটি ঘটনা ছিল মাসের শেষ দিকের একটি সপ্তাহান্তে।
শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের গাড়িবহর রওনা হয় তার নিজস্ব ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবের উদ্দেশে।
পরদিন রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে লাফায়েত পার্কে যেতে দেখা যায়। হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীরা তার এই সফরের তথ্য জানান। তার সহযোগী মার্গো মার্টিনও এ সফরের একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন।
এরপর পটোম্যাক নদীর তীরবর্তী হেইনস পয়েন্ট গলফ কোর্সে যান ট্রাম্প। ওই গলফ কোর্সটি তিনি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছেন। পরে সকাল ১১টা ৪১ মিনিটে ভার্জিনিয়ায় নিজের গলফ ক্লাবে পৌঁছান তিনি।
জুন মাসে সকালে জনসমক্ষে ট্রাম্পের উপস্থিতির আরেকটি ব্যতিক্রম ছিল বিদেশ সফর। ১৫ থেকে ১৭ জুন বিশ্বনেতাদের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সে তিন দিনের সফরে যান তিনি। ওই সফরের সময় তাকে সকালে দেখা যায়।
এসব ঘটনা ছাড়া জুনের প্রতিটি দিন সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে আসেননি ট্রাম্প।
সকাল ১০টার অনুষ্ঠানও শুরু হয় দেরিতে
জুন মাসে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সকালে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা একমাত্র অনুষ্ঠানও নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি।
১০ জুন সকাল ১০টায় ‘সিকিউর আমেরিকা অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরের কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু অনুষ্ঠানটি এক ঘণ্টারও বেশি সময় পিছিয়ে যায়। সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
১১ জুন সকাল ৮টায় ফক্স নিউজের অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ ফোনে যুক্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তাকে ক্যামেরায় দেখা যায়নি।
এ ছাড়া দিনের প্রথম ভাগের কর্মসূচিতে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ উল্লেখ করা থাকে। সকাল ১১টা থেকে ‘নীতিনির্ধারণী বৈঠক’ থাকার কথাও বলা হয়। তবে এসব বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের অনুমতি থাকে না।
দুপুর ১২টার অনুষ্ঠানও ছিল বিরল। ২৪ জুন বুধবার দুপুরে দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া একটি আবাসনবিষয়ক বিলে স্বাক্ষর করতে ক্যাপিটল হিলে যাওয়ার কথা ছিল ট্রাম্পের। কিন্তু সকাল ১১টার কিছু আগে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করেন তিনি।
এতে ক্যাপিটল হিলে থাকা রিপাবলিকান নেতারা হতবাক হয়ে যান। স্ট্যাচুয়ারি হলে তার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের জন্য মঞ্চ তৈরি করে অপেক্ষা করছিলেন তারা।
শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টার কিছু পর ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান সিনেটরদের মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন ট্রাম্প। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
হোয়াইট হাউসের জবাবেও বিতর্ক
সকালে ট্রাম্পের জনসমক্ষে কম উপস্থিতি এবং দিনের প্রথম ভাগে তাকে কেন অধিকাংশ সময় আড়ালে রাখা হয়, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছিল ডেইলি বিস্ট। তবে হোয়াইট হাউস সরাসরি তার কর্মসূচি নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
এর পরিবর্তে হাফিংটন পোস্টকে আগে দেওয়া একটি বক্তব্য হুবহু পাঠিয়ে দেয়। ওই বক্তব্যে বৈঠকের সময় ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রখর বুদ্ধিমত্তা, অসাধারণ কর্মশক্তি এবং ইতিহাসে নজিরবিহীন সহজলভ্যতা আগের প্রশাসনের চিত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। সে সময় ডেমোক্র্যাটরা এবং ব্যর্থ হাফিংটন পোস্টের মতো পুরোনো সংবাদমাধ্যমগুলো জো বাইডেনের গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অবনতির বিষয়টি আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করেছিল।’
৩২ বছর বয়সি ডেভিস ইংল ফ্লোরিডার সাউথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ বিষয়ে স্নাতক করেছেন। তার বাবা কেন্ট ইংল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট।
‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ বলতে আসলে কী বোঝায়, সে বিষয়েও ডেইলি বিস্টের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি হোয়াইট হাউস।
তবে এই সময়ের মধ্যেও কখনো কখনো ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন ট্রাম্প। বিশেষ করে কেবল টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদে যা দেখানো হয়, তার প্রতিক্রিয়ায় প্রায় তাৎক্ষণিক পোস্ট করার ঘটনাও রয়েছে। যদিও জুন মাসে এমন পোস্টের সংখ্যাও ছিল কম।
‘এক্সিকিউটিভ টাইম’-এর শুরু ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে
প্রেসিডেন্টের সরকারি কর্মসূচিতে প্রথম মেয়াদ থেকেই ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত এই সময়কে প্রেসিডেন্টের নিজের ইচ্ছামতো কাটানোর জন্য নির্ধারিত অনানুষ্ঠানিক সময় হিসেবে রাখা হয়।
ডেইলি বিস্টের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মে মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ২৬ দিন সকাল ৮টা থেকে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ ছিল ট্রাম্পের কর্মসূচিতে। ওই মাসে ১১ দিন সকাল ১১টার আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এর মধ্যে চার দিন ছিল গলফ খেলার জন্য এবং তিন দিন ছিল চীন সফরের সময়।
অর্থাৎ মে মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে মাত্র চার দিন সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে দেখা গেছে তাকে।
১৯ মে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হোয়াইট হাউসের বাইরে এসে নিজের বলরুম নির্মাণকাজ সাংবাদিকদের দেখান ট্রাম্প। পরদিনই কোস্ট গার্ড একাডেমিতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে কানেকটিকাটে যান তিনি।
৫ মে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের কথা থাকলেও অনুষ্ঠানটি প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়।
২৬ মে সকালে নিজের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ওয়াল্টার রিড সামরিক চিকিৎসাকেন্দ্রে যান ট্রাম্প। সেখানে ২২ জন বিশেষজ্ঞ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরে তার চিকিৎসক জানান, প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা চমৎকার। তবে চিকিৎসকের এই মূল্যায়ন নিয়ে ব্যাপক সংশয় ও উপহাসের সৃষ্টি হয়।
এপ্রিলেও একই চিত্র
এপ্রিল মাসেও সকাল ৮টা থেকে প্রতিদিন ট্রাম্পের কর্মসূচিতে ‘এক্সিকিউটিভ টাইম’ রাখা হয়েছিল।
ওই মাসে সকালে কয়েকটি টেলিফোন সাক্ষাৎকার দিলেও সকাল ১১টার আগে জনসমক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নেন মাত্র ছয়বার।
এর মধ্যে একটি ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। ১ এপ্রিল খুব সকালে সুপ্রিম কোর্টে যান ট্রাম্প। সেখানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত মামলার মৌখিক শুনানির প্রথম অংশ দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুনানি শেষ হওয়ার আগেই মাঝপথে আদালত ছেড়ে চলে যান। মামলায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়ে তার প্রশাসন।
২ এপ্রিল সকালে হোয়াইট হাউসের ইস্টার এগ রোল অনুষ্ঠানে অংশ নিতেও দেখা যায় তাকে। অনুষ্ঠানটি সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্প ট্রুম্যান ব্যালকনিতে আসেন সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে।
এরপর শনিবার সকালে নিজের গলফ ক্লাবে যান তিনি। ১৮ এপ্রিল সকাল ৯টার কিছু পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেন এবং কয়েকটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
এরপর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে যায়, সকালে আর কোনো অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাকে।
অবশেষে ২৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসকে স্বাগত জানান ট্রাম্প। সেদিনও নির্ধারিত সময়ের দেরিতে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সকাল ১১টার কিছু আগে শুরু হয় সেই অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্র, সোশ্যাল মিডিয়া























