=== console.log('header!'); // вставь сюда свой код полностью
  • আজ ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালের গড় টিকিটের দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা

| পিপলস ডিজিটাল ডেস্ক ৯:৩৬ অপরাহ্ণ | ১৬/০৭/২০২৬ খেলাধুলা

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে আকাশছোঁয়া হয়েছে টিকিটের দাম। ২০২৬ আসরের ফাইনালের টিকিট ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য স্পর্শ করেছে। ফিফার ঘোষিত প্রাথমিক দামের তুলনায় এখন টিকিটের মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

আগামী রোববার রাতে নিউইয়র্কে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচটি ঘিরে দর্শকদের তুমুল আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে টিকিটের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য পৌঁছেছে ১১ হাজার ৩২৭ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের টিকিটের ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গড় মূল্য।

ফাইনাল খেলা দেখার জন্য সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ৬ হাজার ৯৪৩ ডলার। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে এই দাম ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। ফাইনালে কোন দুই দল খেলছে, তা নিশ্চিত হওয়ার পর দাম কিছুটা কমেছে। খবর ফোর্বস।

এখন পর্যন্ত ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের টিকিট বিক্রি হয়েছে এই দামে। অর্থাৎ দুটি টিকিটের মোট মূল্য ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।

টিকপিকের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে গড় টিকিটমূল্যের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়ার তালিকায় এখন সবার শীর্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল। এরপর রয়েছে-সুপার বোল এলভিআইআইআই (২০২৪): ৯ হাজার ৪১১ ডলার, সুপার বোল এলভি (২০২১): ৭ হাজার ৩১৩ ডলার, সুপার বোল এলআইভি (২০২০): ৬ হাজার ৫৪৬ ডলার, ২০২৬ এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ (নিউইয়র্ক নিকস বনাম সান আন্তোনিও স্পার্স): ৬ হাজার ৩০৮ ডলার।

এদিকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠেয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলার সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ৯০০ ডলার। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর এই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৩০০ ডলার কমেছে।

টিকিট সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম সিটপিকের তথ্যানুসারে, সামগ্রিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় টিকিটের গড় মূল্য ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার, সেমিফাইনালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬২ ডলার। তবে টুর্নামেন্টের পুরোটা সময় যে টিকিটের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, বিষয়টি তা নয়। টিকিট পুনর্বিক্রয়ের বাজারে কয়েকটি ম্যাচের টিকিটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

বিশেষ করে স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর ওই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

প্রাথমিক দাম কত ছিল
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টিকিট যখন প্রথম দফায় উন্মুক্ত বিক্রি শুরু হয়, তখন ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৯৯০ ডলার রেখেছিল ফিফা। পুনর্বিক্রয় বা ‘রিসেল’ বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনা করলে ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটাই ছিল সর্বোচ্চ দাম।

তবে ফিফার টিকিট বিক্রয় পদ্ধতি নিয়ে দর্শক-সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। ফিফা একবারে সব টিকিট ছাড়েনি। ম্যাচের আগপর্যন্ত টিকিট ছাড়া হয়েছে টুর্নামেন্টজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যপদ্ধতির কারণে টিকিটের দাম রীতিমতো আকাশ ছুঁয়েছে।

টিকিটের অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবারের বিশ্বকাপ। ফলে এটি ধনীদের আসরে পরিণত হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে। সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির পদ্ধতি ও মূল্য নির্ধারণের কৌশল পর্যালোচনা করা হবে।