• আজ ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোদির শাসনে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা হুমকির মুখে

| নিউজ রুম এডিটর ১২:০১ অপরাহ্ণ | ২৬/০৭/২০২৬ জাতীয় রাজনীতি

নরেন্দ্র মোদির সরকার হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সাথে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের মিশ্রণ ঘটিয়ে ভারতকে গভীর বৈশ্বিক বিতর্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান এবং জাতিসঙ্ঘে ভেটো ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়াদিল্লির সক্রিয়তা বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে ভারতের আসল চেহারা উন্মোচন করেছে। মোদির সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী নীতি ধর্মীয় সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের প্রান্তিক করে তুলেছে। এর ফলে হিন্দুরা সহ সকল ধর্মের তরুণেরা রাজপথে নেমে এসে ভারতের মৌলিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

মোদির শাসনামলে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ঘটেছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ, গোদি মিডিয়ার অপপ্রচার, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ধীরে ধীরে ভারতীয় সমাজে বহুত্ববাদের ক্ষয়কে সূচিত করছে। বিজেপির কট্টরপন্থী বক্তব্য ভোটারদের উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু রাজনীতিতে এটি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশের তরুণ সমাজ বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। অরুন্ধতী রায়ের মতে, ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘টিস্যু পেপারে মোড়ানো পচনশীল মৃতদেহের’ মতো। এই বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা সমাজে বিদ্রোহের সূচনা করছে, যেখানে ছাত্র-যুবরা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে।

অরুন্ধতীর ভাষায়, এই আন্দোলন দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি আলোর উৎস হয়ে উঠেছে। যুব সমাজ হাস্যরস, গান ও নাচের মাধ্যমে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করছে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ রাখলেও তরুণদের এই উচ্ছ্বাসকে দমাতে পারছে না।

প্রখ্যাত শিল্পী অঞ্জন দত্তও আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুবকদের এভাবে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি তাদের সাহসিকতায় গর্ব প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি ভারতের গণতন্ত্র ও জনগণের আস্থাকে আরো দৃঢ় করেছে।

কংগ্রেস নেতা শশী থারুর ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই আন্দোলন ক্ষণস্থায়ী নয় বরং এটি জাতীয় সমস্যা এবং সরকারকে অবশ্যই সংলাপে বসতে হবে।