• আজ ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটকে থাকায় মারাত্মক হুমকির মুখে সামুদ্রিক পরিবেশ

| নিউজ রুম এডিটর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ০৯/০৮/২০২৬ অন্যান্য

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে দেড় হাজারের বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মাসের পর মাস স্থবির হয়ে পড়ে আছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এভাবে জাহাজগুলো অচল থাকার কারণে সমুদ্রে ক্ষতিকর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সামুদ্রিক পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হওয়ার পাশাপাশি মানুষের শরীরে নানা রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে হরমুজ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। শত শত তেলবাহী জাহাজ দীর্ঘ সময় ধরে একই স্থানে নোঙর করে আছে। দীর্ঘদিন জাহাজ অচল থাকায় সেগুলোর তলায় বিষাক্ত শেওলা, অণুজীব এবং ক্ষতিকর ঝিনুক বা শামুকজাতীয় জীবের ব্যাপক বংশ বিস্তার ঘটছে, যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় ‘বায়োফাউলিং’ বলা হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই জাহাজগুলো পুনরায় চলাচল শুরু করলে এসব ক্ষতিকর প্রজাতি এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং উডস হোল ওশেনোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশনের গবেষকদের গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্রের কোনো স্থানে বিপুলসংখ্যক জাহাজ এভাবে অলস বসে থাকলে স্থানীয় সামুদ্রিক জৈব-নিরাপত্তা নষ্ট হয়। এই ক্ষতিকর প্রজাতিগুলো অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়লে সামুদ্রিক প্রাণী ও মাছের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, বাণিজ্য পুনরায় চালুর আগে জাহাজগুলোর তলা ভালোভাবে পরিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে, অন্যথায় এটি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তৎপরতার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই রুট দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো আটকে থাকায় অর্থনীতি ও পরিবেশ উভয়ই মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।