
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারির পর তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক ও গবেষক ড. ফাহাম আব্দুস সালাম। পোস্টে তিনি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান এবং রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একজন বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা পাবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে ফাহাম আব্দুস সালাম মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং দেশ ও দলের প্রতি নিঃস্বার্থ নিবেদনের নানা দিক তুলে ধরেন। দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মির্জা ফখরুলকে একটি যৌথ পরিবারের দায়িত্বশীল ‘বড় ভাই’ ও ‘বড় ছেলে’র সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি লেখেন, মির্জা ফখরুল এমন একজন মানুষ যিনি নিজের সুখ-স্বার্থ ত্যাগ করে অনুজদের বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে আনন্দ পান। ব্যক্তিগত জীবনে তার কর্মস্পৃহা ও ভদ্র আচরণই তার সাফল্যের চাবিকাঠি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি তার আনুগত্য ছিল অতুলনীয় এবং তার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে তিনি জীবনের মূল দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
ফাহাম উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে এক কথোপকথনে মির্জা ফখরুল তাকে জানিয়েছিলেন যে, ম্যাডামকে মুক্ত করতে পারা এবং নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পথে দেশকে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই তার জীবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজনীতিতে এমন একজন অনুগত ও নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধা পাওয়া যে কোনো নেতার জন্যই সৌভাগ্যের বিষয়।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি তার জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার। আনন্দের কারণ জাতি হিসেবে এমন একজন অভিভাবকসুলভ মানুষকেই এই পদে দরকার ছিল। আর হতাশার কারণ হলো বিএনপিতে এমন একজন নিঃস্বার্থ মানুষের বিকল্প খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বঙ্গভবনের ঘেরাটোপে তার মতো কর্মঠ মানুষের দম বন্ধ হয়ে আসতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফাহাম আরও বলেন, মির্জা ফখরুল কোনো মারদাঙ্গা রাজনীতি বা অর্থবিত্তের প্রদর্শনী করেন না এবং তার কোনো গ্রুপিংও নেই। তবুও সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভিন্ন মতাদর্শের মানুষের কাছেও তার প্রতি ব্যাপক সম্মান ও আস্থা রয়েছে। রাজনীতিতে সততা ও ভালো মানুষের স্থান আছে— তার জীবন তারই বড় প্রমাণ।























