
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করবে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার বিকেলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সমকালকে বলেন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। শিগগির তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
এর আগে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ওই তরুণীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দেন সংসদ সদস্য।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছরের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে এবং আমার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসায় আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই। যারা আমাদের সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নৈতিক চরিত্র ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
গত সোমবার রাতে ‘প্রতিবাদী কন্ঠস্বর’ নামে ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি প্রকাশিত হয়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ওই নারীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। সেখানে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর শুরুতে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি। তবে তথ্য যাচাইকারী একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধান করে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়, সেটি আসল।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ভিডিওর ওই তরুণী সম্প্রতি চাকরির জন্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই তরুণীর সিভির একটি ছবি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে এমপির সুপারিশ রয়েছে। গত ২২ জুন এমপি নজরুল সেই সিভিতে সই করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে উদ্দেশ্য করে এমপি নজরুল ইসলাম সিভিতে লিখেছেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য জোর সুপারিশ করছি’।
গাজী নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয় জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য। এর আগে তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে একই আসন থেকে জামায়াতের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।




















