• আজ ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল রক্ষা ও নিজস্ব ভূখণ্ড সুরক্ষায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পেন্টাগনে পেন্টাগনের সতর্কতা

| নিউজ রুম এডিটর ১০:৩০ অপরাহ্ণ | ০১/০৮/২০২৬ News

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে সুরক্ষিত রাখার মতো পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে পেন্টাগনে লিখিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল ও নিজেদের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত যুদ্ধজাহাজও মার্কিন নৌবাহিনীতে নেই। উভয় অভিযান একসঙ্গে চালানো অসম্ভব হওয়ায় ইসরায়েলের চেয়ে মার্কিন ভূখণ্ড সুরক্ষাকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। শনিবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইইউকম) প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ চলতি সপ্তাহে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি গোপনীয় চিঠি পাঠান। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবিলম্বে অতিরিক্ত একটি নৌ-ডেস্ট্রয়ার মোতায়েনের দাবি জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, অতিরিক্ত রণতরি না পাওয়া গেলে মার্কিন ভূখণ্ডের সুরক্ষাকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার চেয়ে এগিয়ে রাখতে হবে।

ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেছে এবং টানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে একাধিক সামরিক অভিযানে যুক্ত থাকা রণতরিগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও মেরামতেও বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড ভূমধ্যসাগরে নিয়োজিত ডেস্ট্রয়ারগুলো দিয়ে ইসরায়েলকে রক্ষা করে আসছে। এগুলো উন্নত রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের ছোড়া শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করছে। একই সময়ে ইউকম প্রধানকে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার রক্ষা এবং রাশিয়ার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মার্কিন ভূখণ্ড রক্ষার সক্ষমতাও বজায় রাখতে হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আরব সাগরেও মার্কিন নৌশক্তির বিশাল সমাবেশ ঘটানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। ফলে নৌবাহিনীকে তাদের রণতরি একাধিক ফ্রন্টে বিভক্ত করতে হয়। আরব সাগরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে ১১টি ডেস্ট্রয়ারসহ অন্তত ১৫টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া লোহিত সাগরে ইউএসএস গঞ্জালেজ নামের আরও একটি ডেস্ট্রয়ার হুতি হামলা মোকাবিলায় নিয়োজিত রয়েছে।

পেন্টাগনের পূর্ববর্তী মূল্যায়নে দেখা গেছে, গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে ইসরায়েল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থার চেয়ে মার্কিন দূরপাল্লার থাড এবং নৌ-ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত বেশি মাত্রায় নির্ভর করেছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধনীতি ঘরোয়া রাজনীতিতেও চরম বিরোধিতার মুখে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইসরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেদের অস্ত্রাগার ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ার এই সংকট বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে।